ঢাবি শিক্ষার্থী মিমোর আত্মহত্যা: রিমান্ডে শিক্ষক সুদীপ চক্রবর্তী

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের শিক্ষার্থী মুনিরা মাহজাবিন মিমোর আত্মহত্যার প্ররোচনার মামলায় একই বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীকে তিন দিনের রিমান্ডে নিয়েছে পুলিশ।  ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মনজুরুল ইসলাম শুনানি শেষে রোববার (৩ মে) এই রিমান্ড মঞ্জুর করেন।

আদালত সূত্রে জানা গেছে, মামলার তদন্ত কর্মকর্তা বাড্ডা থানার উপ-পরিদর্শক (এসআই) কাজী ইকবাল হোসেন গত বুধবার আসামিকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তিন দিনের রিমান্ড আবেদন করেছিলেন। রোববার আসামির উপস্থিতিতে শুনানির দিন ধার্য করেন আদালত । শুনানি শেষে অতিরিক্ত পাবলিক প্রসিকিউটর মুহাম্মদ শামসুদ্দোহা সুমন বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, ঘটনার নেপথ্য কারণ উদঘাটনে আসামিকে পুলিশি হেফাজতে জিজ্ঞাসাবাদ করা জরুরি।

নিহত মুনিরা মাহজাবিন মিমো বিশ্ববিদ্যালয়ের ২০১৯-২০ শিক্ষাবর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। তিনি রাজধানীর বাড্ডা এলাকায় পরিবারের সঙ্গে বসবাস করতেন। গত রোববার সকালে নিজ কক্ষ থেকে তাকে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। পুলিশ ঘটনাস্থল থেকে একটি ‘সুইসাইড নোট’ বা চিরকুট উদ্ধার করেছে। পুলিশের প্রাথমিক তথ্যমতে, ওই চিরকুটে ব্যক্তিগত কিছু বিষয় ও আর্থিক লেনদেনের উল্লেখ রয়েছে, যা মিমোকে চরম মানসিক চাপের মুখে ঠেলে দিয়েছিল বলে ধারণা করা হচ্ছে।

মিমোর মৃত্যুর পর তার বাবা মোহাম্মদ গোলাম মোস্তফা বাদী হয়ে বাড্ডা থানায় সহযোগী অধ্যাপক সুদীপ চক্রবর্তীর বিরুদ্ধে আত্মহত্যায় প্ররোচনার অভিযোগে মামলা দায়ের করেন। মামলা হওয়ার পরপরই পুলিশ অভিযুক্ত শিক্ষককে গ্রেপ্তার করে আদালতে হাজির করে। প্রাথমিক শুনানিতে তার জামিন আবেদন নামঞ্জুর করে তাকে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছিলেন আদালত।

পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশন (পিবিআই) ও বাড্ডা থানা পুলিশ যৌথভাবে এই আত্মহত্যার পেছনের কারণগুলো খতিয়ে দেখছে। শিক্ষক ও ছাত্রীর মধ্যে কোনো ধরনের ব্যক্তিগত সম্পর্ক বা আর্থিক দ্বন্দ্ব ছিল কি না, তা রিমান্ড চলাকালীন জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *