বাঙালির প্রাণের উৎসব পহেলা বৈশাখ পুরোনোকে বিদায় জানিয়ে নতুনকে বরণের এক অনন্য উপলক্ষ। বাংলা নববর্ষের প্রথম দিনটি কেবল বর্ষপঞ্জির পরিবর্তন নয়, বরং এটি বাঙালির সংস্কৃতি, ঐতিহ্য ও অসাম্প্রদায়িক চেতনার প্রতীক। গ্রাম থেকে শহর সবখানেই দিনটি রঙিন উৎসবে পরিণত হয়।
ঐতিহাসিকভাবে পহেলা বৈশাখ-এর সূচনা মুঘল আমলে, সম্রাট আকবর-এর শাসনকালে। কৃষিভিত্তিক অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে রাজস্ব আদায় সহজ করতে বাংলা সনের প্রবর্তন করা হয়। সময়ের ব্যবধানে সেই প্রশাসনিক উদ্যোগই রূপ নেয় সর্বজনীন সাংস্কৃতিক উৎসবে।
ভোরের আলো ফোটার সঙ্গে সঙ্গে উৎসবের আমেজ ছড়িয়ে পড়ে সর্বত্র। নতুন পোশাকে সজ্জিত মানুষ, নারীদের লাল-সাদা শাড়ি ও পুরুষদের পাঞ্জাবি সব মিলিয়ে তৈরি হয় চিরচেনা বৈশাখী আবহ। রাজধানীতে রমনা বটমূল-এ ছায়ানট-এর আয়োজনে সংগীতের মাধ্যমে সূর্যবরণ অনুষ্ঠান বাঙালির সাংস্কৃতিক পরিচয়ের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হয়ে উঠেছে।
এছাড়া মঙ্গল শোভাযাত্রা বৈশাখ উদযাপনের অন্যতম আকর্ষণ, যা ইউনেস্কো-এর স্বীকৃত বিশ্ব সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য। রঙিন মুখোশ ও প্রতীকী শিল্পকর্মের মাধ্যমে সমাজের নানা দিক তুলে ধরা হয় এই শোভাযাত্রায়।
দেশজুড়ে বৈশাখী মেলা, লোকজ সংস্কৃতি, পান্তা-ইলিশসহ ঐতিহ্যবাহী খাবার, এবং ব্যবসায়ীদের হালখাতার আয়োজন দিনটিকে আরও প্রাণবন্ত করে তোলে। সময়ের সঙ্গে কিছু পরিবর্তন এলেও পহেলা বৈশাখ-এর মূল চেতনা অপরিবর্তিত সম্প্রীতি, ঐক্য ও নতুন আশার বার্তা ছড়িয়ে দেওয়া।

