প্রধান খবর

বড় জয় দিয়ে বিশ্বকাপ শুরু করলো যুক্তরাষ্ট্র

নিজেদের মাটিতে ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী দিনে প্যারাগুয়েকে ৪-১ গোলের বিশাল ব্যবধানে বিধ্বস্ত করে এক উড়ন্ত সূচনা করেছে স্বাগতিক যুক্তরাষ্ট্র। শুরু থেকেই আধিপত্য বিস্তার করে খেলা মার্কিন ফুটবলাররা লাতিন আমেরিকার দলটিকে মাথা তুলে দাঁড়ানোর তেমন কোনো সুযোগই দেয়নি।

বিশ্বকাপের দীর্ঘ ইতিহাসে প্যারাগুয়ের বিপক্ষে এটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের মাত্র দ্বিতীয় লড়াই। এর প্রায় এক শতাব্দী আগে, ১৯৩০ সালের  বিশ্বকাপে দল দুটি প্রথমবারের মতো মুখোমুখি হয়েছিল। সেবারও ৩-০ গোলের বড় ব্যবধানে জয় নিয়ে মাঠ ছেড়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। দীর্ঘ ৯৬ বছর পর আবারও বিশ্বমঞ্চে দেখা হলো এই দুই দলের, আর এবারও প্যারাগুয়েকে উড়িয়ে দিয়ে নিজেদের শতভাগ জয়ের অনন্য রেকর্ড অক্ষুণ্ণ রাখল স্বাগতিকরা।

ম্যাচের দ্বিতীয় মিনিট থেকেই ‘হাই-প্রেসিং’ ফুটবলের পসরা সাজিয়ে প্রতিপক্ষকে চেপে ধরে মার্কিনরা। এই আক্রমণাত্মক কৌশলের সুফল আসে ম্যাচের সপ্তম মিনিটেই। ওয়েস্টন ম্যাককেনি চমৎকার এক মুভ থেকে বল বাড়ান এসি মিলান তারকা ক্রিশ্চিয়ান পুলিসিককে। দুই ডিফেন্ডারকে বোকা বানিয়ে পুলিসিক আবারও ম্যাককেনিকে পাস দেন। কিন্তু ম্যাককেনির সেই ক্রস ক্লিয়ার করতে গিয়ে নিজেদের জালেই বল পাঠিয়ে দেন প্যারাগুয়ের মিডফিল্ডার ডামিয়ান বোবাদিয়া। এই দুর্ভাগ্যজনক আত্মঘাতী গোলেই ১-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় যুক্তরাষ্ট্র।

ম্যাচের ১৪ মিনিটে প্যারাগুয়ের হুলিও এনসিসোর একটি দূরপাল্লার শট পোস্টের বাইরে দিয়ে চলে গেলে সমতায় ফেরার দারুণ সুযোগ হাতছাড়া হয় দলটির। ২৮ মিনিটে যুক্তরাষ্ট্রের ফোলারিন বালোগুন বল জালে জড়ালেও অফসাইডের কারণে রেফারি তা বাতিল করেন। তবে তিন মিনিট পর, অর্থাৎ ৩১তম মিনিটে আর কোনো ভুল করেননি তিনি। পুলিসিকের নিখুঁত পাস থেকে বক্সের ভেতর ডান পায়ের দারুণ এক শটে ব্যবধান ২-০ করেন বালোগুন। প্রথমার্ধের যোগ করা সময়ের শেষ মুহূর্তে (৪৫+৫ মিনিট) মালিক টিলম্যানের পাস থেকে ডিফেন্স ভেঙে ম্যাচে নিজের দ্বিতীয় গোলটি করে স্বাগতিকদের ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে নেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধে প্রায় ৭০ শতাংশ বল নিজেদের দখলে রেখে মাঠের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখে মার্কিনরা।

বিরতির পর ম্যাচের ৭৩তম মিনিটে মাওরিচিওর চমৎকার এক গোলে ব্যবধান কমিয়ে ৩-১ করে ম্যাচে ফেরার কিছুটা আভাস দিয়েছিল লাতিন দলটি। তবে গোল হজম করার পর যুক্তরাষ্ট্রের আক্রমণভাগ যেন আরও ভয়ংকর হয়ে ওঠে। ম্যাচের অতিরিক্ত সময়ে (ইনজুরি টাইম) প্যারাগুয়ের কফিনে শেষ পেরেকটি ঠোকেন গিওভ্যানি রেইনা। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া তার দুর্দান্ত এক বাঁকানো শট সরাসরি জালে জড়ালে যুক্তরাষ্ট্রের ৪-১ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত হয়।

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *