ইসরায়েলের বন্দর নগরী হাইফায় ইরানের আকস্মিক ও ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একই পরিবারের চারজন সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন। মর্মান্তিক এই ঘটনায় নিহতদের মধ্যে একজন ফিলিপিনো নারী রয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে ফিলিপাইনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
গত রোববার রাতের এই হামলায় ওই নারী ছাড়াও তার ইসরায়েলি স্বামী এবং বৃদ্ধ শ্বশুর-শাশুড়ি নিহত হয়েছেন। যুদ্ধের তীব্রতা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে সাধারণ মানুষের বসতবাড়িতে এমন প্রাণহানির ঘটনা মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে আতঙ্কের সৃষ্টি করেছে।
ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ও সামরিক বাহিনীর দেওয়া তথ্যমতে, রবিবার গভীর রাতে হাইফার একটি আবাসিক এলাকায় ইরানের ছোড়া একটি শক্তিশালী ক্ষেপণাস্ত্র সরাসরি আঘাত হানে। ক্ষেপণাস্ত্রের আঘাতে বহুতল ভবনটি মুহূর্তেই ধসে পড়ে এবং ওই পরিবারের চার সদস্য ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েন। সোমবার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর উদ্ধারকারী দল কয়েক ঘণ্টা নিরবচ্ছিন্ন তল্লাশি অভিযান চালানোর পর ভবনটির ধ্বংসাবশেষ থেকে তাদের নিথর মরদেহ উদ্ধার করে।
তেল আবিবে নিযুক্ত ফিলিপাইন দূতাবাস ইতিমধ্যে নিহতের পরিবারকে এই হৃদয়বিদারক সংবাদ অবহিত করেছে। ফিলিপাইন সরকার এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বর্তমান প্রতিকূল যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যেও ওই নারীর মরদেহ দ্রুত স্বদেশে ফিরিয়ে আনার জন্য সব ধরনের কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক প্রচেষ্টা চালিয়ে যাওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি গভীর সমবেদনা জানিয়ে পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে ম্যানিলা।
এদিকে, হাইফাসহ ইসরায়েলের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ শহরে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র হামলা অব্যাহত থাকায় নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে। ইরানের পক্ষ থেকে এই হামলাকে তাদের ওপর চালানো মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানের জবাব হিসেবে দাবি করা হয়েছে। সাধারণ নাগরিকদের ওপর এমন হামলার ঘটনায় আন্তর্জাতিক মহলে তীব্র প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়েছে। বিশেষ করে বিদেশী নাগরিকদের প্রাণহানি এবং আবাসিক এলাকায় বোমা বর্ষণের ফলে যুদ্ধের ভয়াবহতা নিয়ে বিশ্বজুড়ে উদ্বেগ বাড়ছে।

