প্রধান খবর

ইরান-ওমান হরমুজের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করবে

কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালির ভবিষ্যৎ প্রশাসন ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা ইরান ও ওমানের যৌথ সিদ্ধান্তের মাধ্যমে নির্ধারিত হতে যাচ্ছে । এই প্রণালিকে ঘিরে দীর্ঘদিনের উত্তেজনার মধ্যেই তেহরান ও মাস্কাট আঞ্চলিক সংলাপের মাধ্যমে এর সমাধানের পথে হাঁটছে। সংশ্লিষ্ট কূটনৈতিক সূত্রগুলোর দাবি, এটি একান্তই একটি আঞ্চলিক ইস্যু এবং বাইরের কোনো পরাশক্তির হস্তক্ষেপ ছাড়াই এর চূড়ান্ত সমাধান হওয়া উচিত বলে জোরালো দাবি জানিয়েছে ইরান।

এই দ্বিপাক্ষিক আলোচনার নেপথ্যে একটি সম্ভাব্য সমঝোতা স্মারক নিয়ে কাজ চলছে বলেও জানা গেছে। ওই সমঝোতার অংশ হিসেবে একটি ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। প্রাপ্ত তথ্যমতে, ওয়াশিংটন প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে, আলোচনাকালীন সময়ে এই অঞ্চলে অতিরিক্ত মার্কিন সামরিক উপস্থিতি বাড়ানো হবে না। পাশাপাশি, নতুন করে কোনো অর্থনৈতিক বা সামরিক নিষেধাজ্ঞাও আরোপ করা হবে না বলে আশ্বাস দেওয়া হয়েছে।

তবে, এই গঠনমূলক কূটনৈতিক তৎপরতার মাঝেও অতীত উত্তেজনার বিষয়টি প্রাসঙ্গিকভাবেই সামনে আসছে। এর আগে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ওমানকে কড়া সতর্কবার্তা দিয়ে জানিয়েছিলেন, হরমুজ ইস্যুতে ওমান যদি ইরানের পক্ষ নেয়, তবে তার পরিণতি অত্যন্ত গুরুতর হতে পারে। ট্রাম্পের ওই বিতর্কিত মন্তব্য নিয়ে সে সময় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে ব্যাপক সমালোচনা ও শঙ্কার সৃষ্টি হয়েছিল।

উল্লেখ্য, বিশ্বের জ্বালানি সরবরাহের অন্যতম প্রধান ও গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হলো এই হরমুজ প্রণালি। এই রুটের ওপর বিশ্ব অর্থনীতি অনেকাংশেই নির্ভরশীল। ফলে, হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সাম্প্রতিক এই কূটনৈতিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের সার্বিক নিরাপত্তা এবং বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত তাৎপর্যপূর্ণ বলে মনে করছেন ভূ-রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা।

 

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *