প্রধান খবর

তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর: উন্নয়নের নতুন স্বপ্ন দেখছে জেলাবাসী

তারেক রহমানের কক্সবাজার সফর ঘিরে জেলাজুড়ে উচ্ছ্বাস, উন্নয়ন ও রোহিঙ্গা ইস্যুতে বাড়ছে প্রত্যাশা

বহুল আলোচিত কক্সবাজার সফরকে কেন্দ্র করে জেলার সর্বত্র উৎসবের আমেজ বিরাজ করছে। রাজনৈতিক নেতাকর্মী, প্রশাসনের কর্মকর্তা এবং সাধারণ মানুষের মধ্যে তৈরি হয়েছে ব্যাপক আগ্রহ ও প্রত্যাশা। স্থানীয়দের বিশ্বাস, এই সফরের মাধ্যমে জেলার বিভিন্ন উন্নয়ন প্রকল্প এবং দীর্ঘদিনের গুরুত্বপূর্ণ দাবিগুলো নতুন করে আলোচনায় আসবে।

জেলা বিএনপির সভাপতি ও কক্সবাজার-৪ (উখিয়া-টেকনাফ) আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, রোহিঙ্গা সংকট সমাধানে আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের প্রয়োজন রয়েছে। তিনি আশা প্রকাশ করেন, জাতিসংঘ এবং সংশ্লিষ্ট আন্তর্জাতিক মহলের সঙ্গে যোগাযোগ বাড়িয়ে রোহিঙ্গাদের নিরাপদ, সম্মানজনক ও টেকসই প্রত্যাবাসনের বিষয়ে নতুন অগ্রগতি সম্ভব হবে।

অন্যদিকে কক্সবাজার-৩ আসনের সংসদ সদস্য লুৎফর রহমান কাজল জেলার কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ উন্নয়ন দাবি সামনে আনেন। তার মতে, কক্সবাজার পৌরসভাকে সিটি করপোরেশনে উন্নীত করা, সদর হাসপাতালের শয্যাসংখ্যা ৫০০-তে উন্নীত করা, কক্সবাজার-মহেশখালী সেতু নির্মাণ এবং কক্সবাজার স্টেডিয়ামকে আন্তর্জাতিক মানে উন্নীত করা সময়ের দাবি।

জেলা বিএনপির দপ্তর সম্পাদক মো. ইউসুফ বদরী বলেন, বিশ্বের দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতকে আরও আকর্ষণীয় পর্যটন গন্তব্য হিসেবে গড়ে তুলতে প্রয়োজন আধুনিক পরিকল্পনা। পাশাপাশি মহেশখালী ও কক্সবাজারের মধ্যে যোগাযোগ সহজ করতে সেতু নির্মাণ, বাঁকখালী নদীর ড্রেজিং, সোনাদিয়া দ্বীপে আন্তর্জাতিক পর্যটন জোন গড়ে তোলা এবং মহেশখালী-মাতারবাড়ি এলাকায় গভীর সমুদ্রবন্দর প্রকল্প দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি জানান তিনি।

এর আগে শুক্রবার চকরিয়া পৌরসভার বাস টার্মিনাল এলাকায় আয়োজিত জনসভার প্রস্তুতি পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী। তিনি জানান, কক্সবাজারকেন্দ্রিক জাতীয় স্বার্থ সংশ্লিষ্ট কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় সফরকালে উত্থাপন করা হবে।

দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে স্থানীয় লবণচাষিদের জন্য ন্যায্যমূল্য নিশ্চিত করা, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম মহাসড়ককে ছয় লেনে উন্নীত করা এবং ব্লু ইকোনমি ও মেরিন সায়েন্সভিত্তিক একটি বিশেষায়িত বিশ্ববিদ্যালয় প্রতিষ্ঠা।

সফরসূচি অনুযায়ী, কক্সবাজারে পৌঁছে সড়কপথে চকরিয়া ও পিএমখালী এলাকায় বিভিন্ন উন্নয়ন কার্যক্রমে অংশ নেবেন তারেক রহমান। এর মধ্যে পাতলী খাল পুনঃখনন কার্যক্রম এবং দেশব্যাপী ২৫ কোটি বৃক্ষরোপণ কর্মসূচির উদ্বোধন উল্লেখযোগ্য।

এছাড়া পেকুয়া পৌরসভা ও মাতামুহুরী উপজেলায় কয়েকটি উন্নয়ন প্রকল্পের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার কথা রয়েছে। বিকেলে চকরিয়া বাস টার্মিনাল মাঠে স্থানীয় বিএনপি আয়োজিত জনসভায় বক্তব্য রাখবেন তিনি। পরে কক্সবাজার শহরে একটি সুধী সমাবেশেও অংশ নেবেন।

সফরের অংশ হিসেবে মেরিন ড্রাইভ সড়ক পরিদর্শন করে সমুদ্র উপকূলের বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখারও পরিকল্পনা রয়েছে। রাতেই ঢাকায় ফেরার কথা রয়েছে তার।

এদিকে সফরকে কেন্দ্র করে সব ধরনের প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছে জেলা প্রশাসন। নিরাপত্তা নিশ্চিতে নেওয়া হয়েছে বিশেষ ব্যবস্থা। কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার অহিদুর রহমান জানান, প্রায় তিন হাজার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য দায়িত্ব পালন করবেন। এর মধ্যে জেলা পুলিশের সদস্যদের পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে অতিরিক্ত পুলিশ সদস্য আনা হয়েছে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *