ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি অভিযোগ করেছেন, রাশিয়া ইরানকে শাহেদ ড্রোন সরবরাহ করছে এবং সেই ড্রোনই এখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে। সিএনএন-এ প্রচারিত এক সাক্ষাৎকারের অংশে তিনি বলেন, এটি “শতভাগ সত্য” ইরানি বাহিনী মার্কিন ঘাঁটিতে হামলার জন্য রাশিয়া-নির্মিত শাহেদ ব্যবহার করেছে।
তার এই মন্তব্য মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে, বিশেষ করে এমন সময়ে যখন রাশিয়া ও ইরান উভয়ই পশ্চিমা শক্তির সঙ্গে বাড়তি উত্তেজনার মুখোমুখি।
শাহেদ ড্রোন মূলত ইরানের তৈরি কম খরচে উচ্চ বিধ্বংসী ক্ষমতার কারণে এটি ব্যয়বহুল ক্ষেপণাস্ত্রের বিকল্প হিসেবে দ্রুত জনপ্রিয় হয়। ২০২২ সালের শেষ দিকে রাশিয়া ইউক্রেনে ব্যাপকভাবে শাহেদ ব্যবহার শুরু করলে ড্রোনটি আন্তর্জাতিকভাবে আলোচনায় আসে। প্রথমদিকে ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করলেও পরে মস্কো নিজস্ব সংস্করণ তৈরি শুরু করে।
বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন সামরিক বাহিনী শাহেদ-ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে। এমনকি যুক্তরাষ্ট্রও স্বীকার করেছে, ইরানের বিরুদ্ধে চলমান অভিযানে তারা শাহেদ-ধরনের ড্রোন ব্যবহার করছে যা প্রযুক্তিটির বিস্তার কত দ্রুত ঘটেছে তা স্পষ্ট করে।
ড্রোন প্রযুক্তির এই বিস্তার রাশিয়া-ইরান সামরিক সহযোগিতার গভীরতাকেও তুলে ধরে। দুই দেশের সম্পর্ক এখন শুধু অস্ত্র বিনিময়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং কৌশলগতভাবে তারা একে অপরের ওপর নির্ভরশীল হয়ে উঠছে। পশ্চিমা বিশ্লেষকদের মতে, সস্তা কিন্তু বিধ্বংসী এই ড্রোন প্রযুক্তি ভবিষ্যতের সংঘাতে বড় ভূমিকা রাখবে এবং প্রচলিত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থাকে চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলবে।
মধ্যপ্রাচ্যে সাম্প্রতিক হামলাগুলো দেখাচ্ছে, শাহেদ ড্রোন এখন শুধু ইউক্রেন যুদ্ধের অস্ত্র নয় এটি আঞ্চলিক শক্তির ভারসাম্য বদলে দেওয়ার মতো একটি কৌশলগত হাতিয়ার। রাশিয়া ও ইরানের এই ঘনিষ্ঠ সামরিক সহযোগিতা যুক্তরাষ্ট্র ও তার মিত্রদের জন্য নতুন নিরাপত্তা উদ্বেগ তৈরি করছে।

