সংসদের দক্ষিণ প্লাজায় অনুষ্ঠিত আনুষ্ঠানিকতায় দেশের ১৭তম প্রধানমন্ত্রী হিসেবে শপথ নিয়েছেন তারেক রহমান। ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে দুই-তৃতীয়াংশের বেশি সদস্যের সমর্থনে সরকারপ্রধানের দায়িত্ব গ্রহণ করেন তিনি। এর মাধ্যমে দীর্ঘ রাজনৈতিক অধ্যায়ের পর রাষ্ট্রীয় নেতৃত্বে নতুন অধ্যায়ের সূচনা হলো।
বাংলাদেশের প্রথম প্রধানমন্ত্রী ছিলেন তাজউদ্দীন আহমদ, যিনি ১৯৭১ সালের ১৭ এপ্রিল মুজিবনগর সরকারে শপথ নেন। স্বাধীনতার পর শেখ মুজিবুর রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন। পরবর্তী সময়ে সামরিক ও রাষ্ট্রপতি শাসিত ব্যবস্থার পরিবর্তনের মধ্য দিয়ে প্রধানমন্ত্রীর পদে দায়িত্ব পালন করেন বিভিন্ন রাজনৈতিক নেতা। ১৯৯১ সালে সংসদীয় গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার পর থেকে পালাক্রমে সরকার পরিচালনা করেন খালেদা জিয়া ও শেখ হাসিনা।
২০০৯ সাল থেকে টানা কয়েক মেয়াদে সরকার পরিচালনার পর ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের প্রেক্ষাপটে ক্ষমতার পালাবদল ঘটে। অন্তর্বর্তী সরকারের মেয়াদ শেষে ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ী হয়ে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন তারেক রহমান।
প্রায় ১৭ বছর প্রবাসে থাকার পর গত ২৫ ডিসেম্বর দেশে ফেরেন তিনি। ১৯৮৮ সালে বগুড়া জেলা বিএনপির রাজনীতির মাধ্যমে তার রাজনৈতিক পথচলা শুরু। ২০০২ সালে দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব পদে অধিষ্ঠিত হওয়ার মাধ্যমে জাতীয় রাজনীতিতে সক্রিয় ভূমিকা নেন। ২০০৭ সালে তত্ত্বাবধায়ক সরকারের সময় গ্রেপ্তার ও পরবর্তী সময়ে লন্ডনে অবস্থানকালীনও দলীয় নীতি-নির্ধারণে প্রভাবশালী ভূমিকা পালন করেন। ২০১৮ সালে মায়ের কারাবাসের পর ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন এবং সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পরিবর্তনে নেতৃত্ব দেন।
বিশ্লেষকদের মতে, তারেক রহমানের নেতৃত্বে নতুন সরকার দেশের রাজনৈতিক ও প্রশাসনিক কাঠামোয় সংস্কার ও স্থিতিশীলতা আনার চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হবে।

