প্রধান খবর

বিশ্বজুড়ে মেটারমহাবিপর্যয়: ফেসবুক ও ইনস্টাগ্রামের সাথে অচল হোয়াটসঅ্যাপও

সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমের শীর্ষ প্রতিষ্ঠান মেটার প্ল্যাটফর্মগুলোতে হঠাৎ করেই বড় ধরনের বিপর্যয় দেখা দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে লাখ লাখ ব্যবহারকারী জনপ্রিয় মাধ্যম ফেসবুক, ছবি ও ভিডিও শেয়ারিং প্ল্যাটফর্ম ইনস্টাগ্রাম এবং তাৎক্ষণিক বার্তা আদান-প্রদানের অ্যাপ হোয়াটসঅ্যাপ ব্যবহার করতে গিয়ে ব্যাপক ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন। বিশ্বব্যাপী বিভিন্ন ওয়েবসাইটের সার্ভার ডাউন ট্র্যাক করা প্ল্যাটফর্মগুলোতে ইতিমধ্যেই ব্যবহারকারীদের অভিযোগের পাহাড় জমতে শুরু করেছে।

প্রযুক্তি বিশ্লেষকদের মতে, কারিগরি এই বিভ্রাটটি একটু ভিন্ন প্রকৃতির এবং বেশ রহস্যজনক। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের ব্যবহারকারীরা জানিয়েছেন, কম্পিউটার বা ল্যাপটপে হোয়াটসঅ্যাপের ডেস্কটপ সংস্করণ এবং ফেসবুকের ওয়েব ভার্সন প্রায় পুরোপুরি অচল হয়ে পড়েছে। সাধারণ ব্যবহারকারীরা এসব প্ল্যাটফর্মে প্রবেশ করতে গেলেই স্ক্রিনে ‘এরর’ (Error) বার্তা দেখাচ্ছে। আবার অনেক ক্ষেত্রে ব্রাউজারে থাকা ব্যবহারকারীদের অ্যাকাউন্ট থেকে স্বয়ংক্রিয়ভাবে লগ-আউট হয়ে যাচ্ছে, যা নিয়ে ব্যবহারকারীদের মাঝে সাময়িক বিভ্রান্তি ও আতঙ্ক তৈরি হয়েছে।

তবে এর মধ্যে কিছুটা স্বস্তির খবরও রয়েছে। মোবাইল অ্যাপ্লিকেশনে এখনও অনেকেই স্বাভাবিকভাবে প্ল্যাটফর্মগুলো ব্যবহার করতে পারছেন। অর্থাৎ, যারা ইন্টারনেট ব্রাউজারের বদলে মূলত স্মার্টফোনের অ্যাপে ফেসবুক-হোয়াটসঅ্যাপ চালান, তাদের অনেকেই হয়তো মেটার এই বিশাল সার্ভার ডাউনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে টেরই পাননি!

তথ্য বিশ্লেষণ করে জানা গেছে, এই কারিগরি ত্রুটির প্রভাব কোনো নির্দিষ্ট অঞ্চলে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এটি সম্পূর্ণ একটি বৈশ্বিক সমস্যা। বাংলাদেশ সময় আজ সন্ধ্যা থেকে যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, ভারত এবং ফিলিপাইনসহ বিশ্বের নানা প্রান্তের অসংখ্য ব্যবহারকারী একযোগে এই সমস্যার সম্মুখীন হয়েছেন বলে নিশ্চিত হওয়া গেছে।

জনপ্রিয় এই মাধ্যমগুলো হঠাৎ ডাউন হওয়ার পরপরই ইন্টারনেট ব্যবহারকারীরা দলে দলে মাইক্রোব্লগিং প্ল্যাটফর্ম ‘এক্স’ (সাবেক টুইটার)-এ ভিড় জমাচ্ছেন। সেখানে মেটার সার্ভার ডাউন হওয়া এবং প্রতিষ্ঠানটির কর্ণধার মার্ক জাকারবার্গকে নিয়ে শুরু হয়েছে ট্রোল আর মজাদার সব মিমের বন্যা। অনেকে রসিকতা করে লিখছেন, “হোয়াটসঅ্যাপ কাজ করছে না বলেই হয়তো আজ কাছের মানুষদের মেসেজ আসছে না, নয়তো আমার ইনবক্স সবসময়ই সচল থাকে!” এক্স-এ ট্রেন্ডিংয়ে থাকা আরেকটি জনপ্রিয় মিমে বলা হচ্ছে— “ফেসবুক-ইনস্টাগ্রাম ডাউন হওয়ার পর গোটা বিশ্ব যখন টুইটারের দিকে দৌড়ে যায়।”

বিভ্রাট শুরু হওয়ার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও মেটা কর্তৃপক্ষের পক্ষ থেকে এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো কারণ বা বিবৃতি প্রকাশ করা হয়নি। তবে প্রযুক্তি বিশেষজ্ঞদের ধারণা, ব্যাক-এন্ড কোডিং বা সার্ভার কনফিগারেশনের কোনো জটিল ত্রুটির কারণেই ডেস্কটপ ও ওয়েব সংস্করণগুলোতে এই আকস্মিক বিপর্যয় দেখা দিয়ে থাকতে পারে।

সাধারণত এ ধরনের বড় প্ল্যাটফর্মগুলোর কারিগরি ত্রুটি দ্রুততম সময়ের মধ্যে সমাধান করা হয়। কারণ সার্ভার প্রতিটি মিনিট বন্ধ থাকার অর্থই হলো মেটার জন্য কোটি কোটি ডলারের বিশাল আর্থিক ক্ষতি এবং সুনামের ঘাটতি। ব্যবহারকারীরা আশা করছেন, অতি দ্রুতই মেটা এই সমস্যার সমাধান করে প্ল্যাটফর্মগুলোর স্বাভাবিক কার্যক্রম ফিরিয়ে আনতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *