হরমুজ প্রণালিতে ভারতীয় পতাকাবাহী দুটি বাণিজ্যিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটেছে। ইরানের প্রভাবশালী সামরিক বাহিনী ইসলামিক বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলা চালিয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এই নজিরবিহীন হামলার ঘটনার পরপরই কঠোর কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিয়েছে ভারত। নয়াদিল্লিতে নিযুক্ত ইরানের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ ফাতালিকে জরুরি ভিত্তিতে তলব করেন ভারতের পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি। বৈঠকে ভারতের পক্ষ থেকে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানানো হয় এবং বিষয়টিকে অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখছে বলে ইরানকে সতর্ক করা হয়।
ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য হিন্দু’র প্রতিবেদন অনুযায়ী, জাহাজ দুটির নাম ‘জগ অর্ণব’ ও ‘সানমার হেরাল্ড’। এর মধ্যে একটি জাহাজে প্রায় ২০ লাখ ব্যারেল ইরাকি অপরিশোধিত জ্বালানি তেল ছিল। জানা গেছে, আইআরজিসি সদস্যরা জাহাজ দুটিকে লক্ষ্য করে সরাসরি গুলিবর্ষণ করেছে। তবে হামলায় জাহাজের ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের সুনির্দিষ্ট তথ্য এখনো জানানো হয়নি।
পররাষ্ট্র সচিব বিক্রম মিশ্রি ইরানের রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে বৈঠকে ভারতের গভীর উদ্বেগের বিষয়টি তেহরান কর্তৃপক্ষকে অবিলম্বে অবহিত করার নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে ভারতগামী এবং ভারতের পতাকাবাহী জাহাজগুলো যাতে কোনো বাধা ছাড়াই দ্রুত ও নির্বিঘ্নে হরমুজ প্রণালি পার হতে পারে, সেই নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য জোর তাগিদ দিয়েছেন তিনি।
বিশ্লেষকদের মতে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতের জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ পরিবাহিত হয়। এই এলাকায় আইআরজিসির এমন আক্রমণাত্মক অবস্থান ভারতের জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য বড় হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র উত্তেজনার মাঝে ভারতীয় জাহাজে এই হামলার ঘটনাটি নয়াদিল্লি ও তেহরানের দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের ওপর এক ধরণের কূটনৈতিক চাপ সৃষ্টি করেছে। আন্তর্জাতিক জলসীমায় ভারতীয় বাণিজ্যিক জাহাজের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে ভারত সরকার প্রয়োজনে আরও কঠোর পদক্ষেপ নিতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

