ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমুজগান প্রদেশের সিরিক দ্বীপে মার্কিন বাহিনীর হামলার মাত্র এক ঘণ্টার মধ্যেই পাল্টা আঘাত হেনেছে ইরানের অভিজাত প্রতিরক্ষা শাখা আইআরজিসি। সোমবার এক লিখিত বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, মার্কিন হামলার উৎসস্থলকে লক্ষ্য করেই তাদের প্রতিশোধমূলক অভিযান পরিচালিত হয়েছে।
ইরানের প্রতিরক্ষা বাহিনী বা অন্য কোনো সশস্ত্র গোষ্ঠী এখনো এই হামলার দায় স্বীকার করেনি। ধারণা করা হচ্ছে, ইরাকভিত্তিক কোনো শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠী এতে জড়িত থাকতে পারে। পরমাণু প্রকল্প ইস্যুতে দীর্ঘ টানাপোড়েনের পর গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ইরানে সামরিক অভিযান শুরু করে। টানা ৪০ দিনের সংঘাত শেষে ৭ এপ্রিল যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করা হয়, যা এখনো কার্যকর রয়েছে।
এই বিরতির মধ্যেই গত সপ্তাহে নতুন করে উত্তেজনা দেখা দেয়। হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন পতাকাবাহী একটি ট্যাংকারকে লক্ষ্য করে ইরান ড্রোন নিক্ষেপ করলে যুক্তরাষ্ট্র বন্দর আব্বাসের একটি ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রে বোমাবর্ষণ করে। তার জবাবে ২৮ মে কুয়েতে মার্কিন বিমানঘাঁটিতে ড্রোন হামলা চালায় আইআরজিসি। তিন দিনের মাথায় একই ঘাঁটিতে আবারও হামলা হয়।
গতকাল সিরিক দ্বীপের পাশাপাশি পারস্য উপসাগরের গোরুক ও কেশম দ্বীপের রাডার ও ড্রোন উৎক্ষেপণ কেন্দ্রেও বোমাবর্ষণ করেছে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনী। এমন সময় এই হামলা-পাল্টা হামলার ঘটনা ঘটছে, যখন দুই দেশের মধ্যে স্থায়ী শান্তিচুক্তি নিয়ে আলোচনা আবারও গতিশীল হয়েছে।

