রাজধানীর পল্লবীতে আট বছর বয়সী শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যার বহুল আলোচিত মামলায় প্রধান আসামি সোহেল রানা এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার উভয়কেই মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে আদালত তাদের অর্থদণ্ডেও দণ্ডিত করেছেন। আজ রোববার (৭ জুন) বেলা ১১টা ৩৭ মিনিটে ঢাকার শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীন জনাকীর্ণ আদালতে এই ঐতিহাসিক রায় ঘোষণা করেন।
মামলা দায়ের থেকে শুরু করে মাত্র ১৭ দিনের মাথায় এই চূড়ান্ত রায় ঘোষণার ঘটনাটিকে বাংলাদেশের বিচারিক ইতিহাসে দ্রুততম ও দৃষ্টান্তমূলক বিচার হিসেবে দেখছেন আইন বিশেষজ্ঞরা। রায় ঘোষণার সময় দণ্ডপ্রাপ্ত দুই আসামিই আদালতের কাঠগড়ায় উপস্থিত ছিল। রায় শোনার পর নিহত রামিসার পরিবার আদালত প্রাঙ্গণেই কান্নায় ভেঙে পড়ে এবং সন্তোষ প্রকাশ করে।
নৃশংস এই হত্যাকাণ্ডের সূত্রপাত হয়েছিল গত ১৯ মে। পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা সকাল সাড়ে ৯টার দিকে ঘর থেকে বের হলে প্রতিবেশী স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে ডেকে নেয়। সেখানে স্বপ্নার সহযোগিতায় প্রধান আসামি সোহেল রানা শিশুটিকে পাশবিকভাবে ধর্ষণ করে এবং পরবর্তীতে ঘটনা ধামাচাপা দিতে নৃশংসভাবে গলা কেটে হত্যা করে। ঘটনার দিন সকালে রামিসাকে খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে স্বপ্নার ঘরের সামনে শিশুটির জুতা দেখতে পান তার মা-বাবা। ভেতর থেকে সাড়াশব্দ না পেয়ে দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করলে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন দেহ এবং একটি বালতির ভেতর থেকে তার বিচ্ছিন্ন মাথা উদ্ধার করা হয়।
এই ঘটনার পর দেশজুড়ে তীব্র ক্ষোভ ও প্রতিবাদের ঝড় উঠলে প্রশাসনের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে দ্রুত বিচারের আশ্বাস দেওয়া হয়েছিল। জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর মাধ্যমে তথ্য পেয়ে পুলিশ তাৎক্ষণিক ঘটনাস্থল থেকে স্বপ্নাকে হেফাজতে নেয় এবং তথ্যপ্রযুক্তির সহায়তায় প্রধান আসামি সোহেল রানাকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেফতার করে। ২০ মে রামিসার বাবা বাদী হয়ে পল্লবী থানায় মামলা দায়ের করার পর মাত্র ৫ দিনের মাথায়, ২৪ মে আদালতে চার্জশিট দাখিল করে পুলিশ।
পরবর্তীতে ১ জুন আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন, ২ জুন রাষ্ট্রপক্ষের ১৬ জন সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ এবং ৪ জুন উভয় পক্ষের যুক্তিতর্ক শুনানি শেষে আজ ৭ জুন আদালত এই চূড়ান্ত রায় প্রদান করলেন। রাষ্ট্রপক্ষে বিশেষ পাবলিক প্রসিকিউটর অ্যাডভোকেট আজিজুর রহমান দুলু আদালতে প্রমাণ করতে সক্ষম হন যে, আসামিরা পূর্বপরিকল্পিতভাবে এই জঘন্য অপরাধ ঘটিয়েছে।
সন্তান হারানোর শোকে মূহ্যমান রামিসার বাবা বলেন, “আদালতের এই রায়ে আমরা সন্তুষ্ট। আমরা চাই এই রায় দ্রুত কার্যকর করা হোক, যেন আর কোনো পাষণ্ড কোনো শিশুর ওপর এমন বর্বরতা চালানোর সাহস না পায়।”

