গত ২০২২ সালে শুরু হওয়া ইউক্রেন যুদ্ধে রাশিয়ার সামরিক বাহিনীর এখনো পর্যন্ত আনুমানিক ২৬০-২৭০টি যুদ্ধবিমান ও হেলিকপ্টার ধ্বংস বা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এর মধ্যে একক এয়ারক্রাফট হিসেবে সবচেয়ে বেশি ধ্বংস হয়েছে রাশিয়ার বিমান বাহিনীর কামভ কেএ-৫২ এলিগেটর অ্যাটাক হেলিকপ্টার।
ধারণা করা হয়, এই যুদ্ধে হালকা ম্যানপ্যাড মিসাইলের আঘাতে রাশিয়ার প্রায় ৫৫-৬০টি এই শক্তিশালী হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছে। তবে বর্তমানে রাশিয়ার এয়ারফোর্স ও ল্যান্ডফোর্সের হাতে আনুমানিক পাঁচশতাধিক অ্যাটাক হেলিকপ্টার (Ka-52, Mi-28, Mi-24/35) সক্রিয় থাকতে পারে, যার মধ্যে প্রায় একশতাধিক কামভ কেএ-৫২ অ্যালিগেটর রয়েছে।
আপনারা জানলে অবাক হবেন যে, আশির দশকে কোল্ড ওয়ার যুগের আফগান যুদ্ধে (১৯৭৯-১৯৮৯) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের প্রায় ৩৩০-৩৫০টি অ্যাটাক ও সামরিক পরিবহন হেলিকপ্টার ধ্বংস হয়েছিল। এগুলোর একটি বড় অংশ ধ্বংস হয়েছিল মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহকৃত ম্যানপ্যাড স্টিংগার (FIM-92 Stinger) মিসাইলের আঘাতে।
এছাড়া, কোল্ড ওয়ার যুগের মিল মি-২৪ (Mil Mi-24 Hind) সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের তৈরি একটি বিশালাকার অ্যাটাক হেলিকপ্টার বা গানশিপ। এর অসাধারণ ফায়ার পাওয়ার, অস্ত্র ধারণ সক্ষমতা এবং শক্তিশালী আর্মারের কারণে একে ‘উড়ন্ত ট্যাংক’ বা ‘ফ্লাইং ট্যাংক’ বলা হয়।
মিল মি-২৪ (Mil Mi-24 Hind) অ্যাটাক হেলিকপ্টার একাধারে ভারী অস্ত্রে সজ্জিত, যেমন- রকেট ও অ্যান্টি-ট্যাংক মিসাইল এবং এটি এর পাশাপাশি ৮ জন সৈন্য পরিবহনে সক্ষম । সর্বোচ্চ গতি ঘন্টায় প্রায় ৩৩৫ কিলোমিটার এবং এতে একটি নোজ-মাউন্টেড ১২.৭ মিমি হেভি মেশিনগান ইন্সটল করা আছে ।
তবে ইউক্রেন যুদ্ধ প্রমাণ করেছে যে, আধুনিক প্রযুক্তির যুগে এই জাতীয় হেভি কমব্যাট হেলিকপ্টার নিয়ে শত্রু দেশের আকাশে প্রবেশ করা এক কথায় আত্মঘাতী হতে পারে। এমআই-২৪ হিন্দ অ্যাটাক হেলিকপ্টারের মূল ব্যবহারকারী দেশ রাশিয়া হলেও বর্তমানে আলজেরিয়া, সিরিয়া, সুদান এবং ইউক্রেনসহ আরও অনেক দেশ এটি পরিচালনা করে ।
মজার বিষয় হলো, উন্নত প্রশিক্ষণ ও গবেষণার জন্য যুক্তরাষ্ট্রের বিমান বাহিনীও কিছু সংখ্যক এই কমব্যাট হেলিকপ্টার ব্যবহার করে থাকে। বর্তমানে মিল মি-২৪ হিন্দ গানশিপের প্রোডাকশন লাইন বন্ধ হয়ে গেলেও এর উন্নত ভেরিয়েন্টের অত্যাধুনিক গানশিপ হচ্ছে মিল মি-৩৫ হিন্দ অ্যাটাক হেলিকপ্টার।

