প্রধান খবর

মারাকানায় সেলেসাওদের গোলবন্যা: পানামাকে ৬-২ ব্যবধানে ওড়ালো ব্রাজিল

ফিফা বিশ্বকাপ ২০২৬-এর মহোৎসবের পর্দা ওঠার আগে নিজেদের শক্তি ও কৌশল ঝালিয়ে নেওয়ার অন্তিম সুযোগটি দুর্দান্তভাবে কাজে লাগাল পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিল। রবিবার রিও ডি জেনিরোর ঐতিহাসিক মারাকানা স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এক আন্তর্জাতিক প্রীতি ম্যাচে প্রতিপক্ষ পানামাকে ৬-২ গোলের বিশাল ব্যবধানে উড়িয়ে দিয়েছে সেলেসাওরা। ঘরের মাঠে বিশ্বকাপ যাত্রার আগে সমর্থকদের সামনে এটিই ছিল ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ, আর সেখানে স্বাগতিকদের এমন গোলবন্যা ফুটবলারদের আত্মবিশ্বাস তুঙ্গে নিয়ে গেছে।

ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবলের পসরা সাজিয়ে বসে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা। রেফারি বাঁশি বাজানোর পর ম্যাচের বয়স যখন এক মিনিটও পূর্ণ হয়নি, ঠিক তখনই রিয়াল মাদ্রিদের পোস্টার বয় ভিনিসিয়ুস জুনিয়র দলকে এগিয়ে নেন। মধ্যমাঠের অভিজ্ঞ সেনানি কাসেমিরোর নিখুঁত পাস থেকে বল পেয়ে ডি-বক্সের বেশ দূর থেকে নেওয়া এক চোখধাঁধানো শক্তিশালী শটে পানামার গোলরক্ষক অরল্যান্ডো মসকেরাকে পরাস্ত করেন এই উইঙ্গার। তবে ১৪তম মিনিটে স্তব্ধ হয়ে পড়ে মারাকানা। মাইকেল মুরিলোর নেওয়া একটি ফ্রি-কিক ব্রাজিলের মাতেউস কুনিয়ার গায়ে লেগে নাটকীয়ভাবে দিক পরিবর্তন করলে গোলরক্ষক অ্যালিসন বেকারকে ফাঁকি দিয়ে জালে জড়ায়।

অপ্রত্যাশিত এই সমতায় ফিরলেও পানামা ম্যাচ নিয়ন্ত্রণে রাখতে পারেনি। প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগেই ভিনিসিয়ুসের বাঁ প্রান্তের জাদুকরি ড্রিবলিং ও ক্রসে হেডের মাধ্যমে বল জালে পাঠিয়ে ব্রাজিলকে আবার ২-১ ব্যবধানে এগিয়ে দেন কাসেমিরো। বিরতির পর কোচ আনচেলত্তি পরীক্ষা-নিরীক্ষার অংশ হিসেবে শুরুর একাদশের প্রায় সব খেলোয়াড়কে বদলে ফেলেন। তবে এই পরিবর্তনের ফলে ব্রাজিলের আক্রমণভাগের ধার না কমে বরং দ্বিগুণ হয়ে ওঠে। ৫৩তম মিনিটে পানামার গোলরক্ষক মসকেরার একটি মারাত্মক ভুল পাস থেকে বল কেড়ে নিয়ে ব্যবধান ৩-১ করেন ১৯ বছর বয়সী উদীয়মান ফরোয়ার্ড রায়ান। বোর্নমাউথের এই তরুণ তারকার গোল মারাকানার গ্যালারিতে উন্মাদনা সৃষ্টি করে।

আক্রমণের ধারাবাহিকতায় ৬০তম মিনিটে দূরপাল্লার জোরালো শটে ব্রাজিলের হয়ে চতুর্থ গোলটি করেন লুকাস পাকেতা। এর ঠিক তিন মিনিট পর বক্সের ভেতরে ইগর থিয়াগোকে গোলরক্ষক মসকেরা ফাউল করলে রেফারি পেনাল্টির নির্দেশ দেন, যা থেকে নিখুঁত শটে দলের পঞ্চম গোল নিশ্চিত করেন থিয়াগো নিজেই। ম্যাচের ৮১তম মিনিটে পাকেতার ভাসিয়ে দেওয়া দারুণ এক পাস ডি-বক্সে নিয়ন্ত্রণে নিয়ে পানামার রক্ষণভাগকে বোকা বানিয়ে বোটাফোগোর তারকা দানিলো ব্রাজিলের হয়ে ষষ্ঠ গোলটি স্কোরবোর্ডে যোগ করেন। ম্যাচের শেষ দিকে পানামার কার্লোস হার্ভি প্রায় ৩০ গজ দূর থেকে নেওয়া এক রকেট শটে একটি সান্ত্বনার গোল (৬-২) পেলেও তা কেবল ব্যবধানই কমিয়েছে।

সুপারস্টার নেইমার জুনিয়র ইনজুরির কারণে দলের বাইরে থাকলেও পুরো ম্যাচে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র ছিলেন ব্রাজিলের মূল চালিকাশক্তি। গ্যাব্রিয়েল মাগালহায়েস, মারকিনিয়োস ও গ্যাব্রিয়েল মার্তিনেল্লির মতো রক্ষণের প্রধান তারকাদের অনুপস্থিতিতেও ৪-২,-৩-১ ফরমেশনে খেলা ব্রাজিল তাদের বেঞ্চের গভীরতা ও বৈচিত্র্যের এক দুর্দান্ত মহড়া প্রদর্শন করেছে। বিশ্বকাপের মূল মঞ্চে নামার আগে আরও একটি প্রস্তুতি ম্যাচে মিশরের মুখোমুখি হবে সেলেসাওরা। এরপর আগামী ১৩ জুন মরক্কোর বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে বিশ্বকাপের গ্রুপ ‘সি’-এর অভিযান শুরু করবে ব্রাজিল, যেখানে তাদের বাকি দুই প্রতিপক্ষ স্কটল্যান্ড ও হাইতি।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *