আসন্ন ফুটবল বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ইতোমধ্যে ৪৮টি দেশ তাদের চূড়ান্ত স্কোয়াড ঘোষণা করেছে। মোট ১,২৪৮ ফুটবলারের তালিকায় সবচেয়ে বড় চমক এবারই প্রথমবারের মতো একই আসরে ৪০ বছর বা তার বেশি বয়সী আটজন ফুটবলার মাঠে নামছেন। ফিফার ইতিহাসে এত বয়সী খেলোয়াড়ের উপস্থিতি এক আসরে আর কখনো দেখা যায়নি। এর আগে ১৯৩০ থেকে ২০২২ পর্যন্ত ২২টি আসরে মিলিয়ে মাত্র আটজন ফুটবলারই ৪০ বছর বয়সে বিশ্বকাপ খেলেছিলেন। সেই সংখ্যাই এবার এক আসরেই ছুঁয়ে ফেলেছে।
এই তালিকার শীর্ষে রয়েছেন স্কটল্যান্ডের গোলরক্ষক ক্রেইগ গর্ডন, যার বয়স ৪৩। আরও বিস্ময়কর হলো এটাই তার প্রথম বিশ্বকাপ। ১৯৯৮ সালের পর স্কটল্যান্ড এবারই প্রথম বিশ্বকাপে ফিরেছে, আর সেই সুযোগেই গর্ডন পেলেন ক্যারিয়ারের সবচেয়ে বড় মঞ্চে দাঁড়ানোর সুযোগ। গ্রুপ ‘সি’-তে স্কটল্যান্ডের প্রতিপক্ষ ব্রাজিল, মরক্কো ও হাইতি। নিজেদের তৃতীয় ম্যাচে পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়ন ব্রাজিলের বিপক্ষে গর্ডনের মুখোমুখি হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
৪০+ বয়সী আট ফুটবলারের মধ্যে পাঁচজনই গোলরক্ষক গর্ডন, গুইলার্মো ওচোয়া, ম্যানুয়েল নয়্যার, জোসিমার দিয়াজ ও ফার্নান্দো মুসলেরা। এর মধ্যে গর্ডন ও দিয়াজ প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন। বাকি তিনজন দীর্ঘদিন ধরেই আন্তর্জাতিক ফুটবলে অভিজ্ঞতার প্রতীক।
এই তালিকার দ্বিতীয় বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবলার পর্তুগালের সুপারস্টার ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো। ৪১ বছর বয়সে তিনি খেলবেন নিজের ষষ্ঠ বিশ্বকাপ, যা বিশ্বকাপ ইতিহাসে যৌথভাবে সর্বোচ্চ অংশগ্রহণের রেকর্ড।
এছাড়া লুকা মদ্রিচ, এডিন জেকো, ওচোয়া, নয়্যার, মুসলেরা সবাইই নিজেদের দেশকে বহু বছর ধরে নেতৃত্ব দিয়ে আসা অভিজ্ঞ তারকা। বয়স বাড়লেও তাদের ফিটনেস, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা এখনও দলগুলোর জন্য অমূল্য সম্পদ।
২০২৬ বিশ্বকাপের বয়োজ্যেষ্ঠ ফুটবলাররা
ক্রেইগ গর্ডন (স্কটল্যান্ড) ৪৩ বছর
ক্রিশ্চিয়ানো রোনালদো (পর্তুগাল) ৪১ বছর
গুইলার্মো ওচোয়া (মেক্সিকো) ৪০ বছর
লুকা মদ্রিচ (ক্রোয়েশিয়া) ৪০ বছর
এডিন জেকো (বসনিয়া) ৪০ বছর
ম্যানুয়েল নয়্যার (জার্মানি) ৪০ বছর
জোসিমার দিয়াজ (কেপ ভার্দে) ৪০ বছর
ফার্নান্দো মুসলেরা (উরুগুয়ে) ৪০ বছর

