বাংলাদেশে প্রতিবছর প্রায় ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয় হয় বলে জানিয়েছেন খাদ্য প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। সোমবার (৮ জুন) জাতীয় সংসদের প্রশ্নোত্তর পর্বে তিনি জাতিসংঘের পরিবেশবিষয়ক সংস্থা ইউনেপের ‘ফুড ওয়েস্ট ইনডেক্স ২০২৪’ প্রতিবেদনের তথ্য তুলে ধরে এ কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী জানান, প্রতিবেদনে উল্লেখিত ৩৫ লাখ টন খাদ্য অপচয়ের পরিসংখ্যান দেশের সামগ্রিক চিত্রকে নির্দেশ করে। তবে সরকারি ব্যবস্থাপনায় গুদাম ও সাইলোতে খাদ্যশস্য সংরক্ষণে অপচয় ও ঘাটতির হার আগের তুলনায় কমিয়ে আনা সম্ভব হয়েছে।
তিনি বলেন, খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার খাদ্যশস্য সংগ্রহ, সংরক্ষণ ও বিতরণ কার্যক্রম পরিচালনা করে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু খাদ্যশস্য নষ্ট হলেও আধুনিক সাইলো ও গুদাম নির্মাণ, উন্নত সংরক্ষণ ব্যবস্থা এবং সংশ্লিষ্টদের সচেতনতা বৃদ্ধির মাধ্যমে অপচয় কমানোর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
সংসদে উপস্থাপিত তথ্যানুযায়ী, ২০২৩-২৪ অর্থবছরে খাদ্যশস্যের ঘাটতি বা অপচয়ের পরিমাণ ছিল ২১ হাজার ৩২৯ দশমিক ৮৮ মেট্রিক টন, যা মোট মজুদের শূন্য দশমিক ৩১৬ শতাংশ। ২০২৪-২৫ অর্থবছরে তা কমে ১৮ হাজার ৮৮৭ দশমিক ৩৪৭ মেট্রিক টনে নেমে এসেছে, যা শতকরা শূন্য দশমিক ২৮ শতাংশ।
খাদ্য প্রতিমন্ত্রী আরও জানান, দেশে খাদ্যের অপচয় রোধ এবং নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষ জনসচেতনতা বৃদ্ধিসহ বিভিন্ন কার্যক্রম পরিচালনা করছে। উৎপাদন বৃদ্ধির পাশাপাশি উৎপাদিত খাদ্যের ক্ষতি ও অপচয় কমাতেও বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।

