দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর অনুষ্ঠিত Rajshahi University Central Students’ Union (রাকসু) নির্বাচনকে ঘিরে শিক্ষার্থীদের মধ্যে ব্যাপক প্রত্যাশা তৈরি হলেও ছয় মাসের মাথায় সেই আশার অনেকটাই ম্লান হয়ে পড়েছে। গত বছরের ১৬ অক্টোবর অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের অধিকার আদায়ের নতুন দিগন্ত উন্মোচনের আশা করা হলেও বাস্তব চিত্র নিয়ে এখন ক্যাম্পাসজুড়ে আলোচনা-সমালোচনা চলছে।
নির্বাচনে জয়ী প্যানেলের ঘোষিত ২৪ দফা ইশতেহারের বিপরীতে এখন পর্যন্ত দৃশ্যমান অগ্রগতি সীমিত বলে অভিযোগ রয়েছে। শিক্ষার্থীদের মতে, প্রতিশ্রুতির বড় অংশই এখনো বাস্তবায়নের অপেক্ষায়। আবাসন সংকট নিরসন, মানসম্মত খাবার, চিকিৎসা সুবিধা উন্নয়ন, পরিবহন ব্যবস্থা বৃদ্ধি ও ক্যাম্পাসে গণতান্ত্রিক পরিবেশ নিশ্চিতকরণের মতো গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুগুলোতে কার্যকর উদ্যোগের ঘাটতি স্পষ্ট।
রাকসুর অভ্যন্তরেও সমন্বয়হীনতার অভিযোগ সামনে এসেছে। সাধারণ সম্পাদক সালাউদ্দীন আম্মার অভিযোগ করেন, সিদ্ধান্ত গ্রহণে সব পক্ষের মতামত সমান গুরুত্ব পায় না। অন্যদিকে, ভিপি মোস্তাকুর রহমান জাহিদ এসব অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, সিদ্ধান্তগুলো আলোচনা ও সমন্বয়ের মাধ্যমেই নেওয়া হচ্ছে এবং এটি স্বাভাবিক মতপার্থক্য ছাড়া কিছু নয়।
রাকসু কর্তৃপক্ষ দাবি করেছে, বিভিন্ন সাংস্কৃতিক কার্যক্রম, অবকাঠামোগত উন্নয়ন এবং শিক্ষার্থীবান্ধব উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তবে অনেক শিক্ষার্থী মনে করছেন, এসব কার্যক্রমের বড় অংশই আনুষ্ঠানিকতা নির্ভর এবং মৌলিক সমস্যাগুলোর স্থায়ী সমাধান এখনো অনুপস্থিত।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের পক্ষ থেকেও সমন্বয়ের ঘাটতির বিষয়টি স্বীকার করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শিক্ষার্থীদের প্রত্যাশা পূরণে রাকসুকে আরও কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক ভূমিকা পালন করতে হবে। সামগ্রিক পরিস্থিতিতে, রাকসু তার ঘোষিত লক্ষ্য অর্জনে কতটা সফল হবে তা এখন সময়ই নির্ধারণ করবে।

