দীর্ঘ চার দশক পর আবারও জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের সভাপতি নির্বাচিত হয়েছে বাংলাদেশ। সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী ও জাতীয় সংসদের স্পিকার হুমায়ুন রশীদ চৌধুরীর পর দ্বিতীয় বাংলাদেশি হিসেবে মর্যাদাপূর্ণ এই পদে নির্বাচিত হয়েছেন বর্তমান পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান।
তিনি এক বছরের জন্য সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব পালন করবেন এবং ইতোমধ্যেই ঘোষণা দিয়েছেন এই সময় তিনি পূর্ণকালীনভাবে জাতিসংঘের কাজেই নিজেকে নিয়োজিত রাখবেন।
এ অবস্থায় প্রশ্ন উঠেছে, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের দায়িত্ব কে সামলাবেন। মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, খলিলুর রহমান নিউইয়র্কে অবস্থান করে পুরো বছর জাতিসংঘের দায়িত্ব পালন করবেন এবং এ সময় মন্ত্রণালয় থেকে ছুটি নেওয়ার ইচ্ছার কথাও জানিয়েছেন। আগামী এক বছর পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী দিয়ে চলবে কি না এ সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি খলিলুর রহমান দেশে ফেরার পর তার সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত দেবেন বলে জানা গেছে। পররাষ্ট্রমন্ত্রী আজই দেশে ফিরছেন।
কূটনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, অতীতে অল্প কিছু ক্ষেত্রে একই সঙ্গে দুই পদে থাকার নজির থাকলেও বেশিরভাগ সময়ই প্রার্থীরা রাষ্ট্রীয় দায়িত্বে ছিলেন না। আগে বছরে মাত্র এক মাস অধিবেশনের সময় সভাপতির দায়িত্ব পালন করতে হতো, কিন্তু এখন সারা বছরই বিভিন্ন সভা, সফর ও কূটনৈতিক কার্যক্রমে ব্যস্ত থাকতে হয় সাধারণ পরিষদের সভাপতিকে। ফলে পূর্ণকালীন সময় দেওয়াই বাস্তবসম্মত।
প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ বলেন, খলিলুর রহমানকে যদি জাতিসংঘে নিবেদিতভাবে দায়িত্ব পালন করতে হয়, তাহলে সময় দিতে হবে। তবে এর মানে এই নয় যে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী থাকতে পারবেন না এটি সম্পূর্ণ প্রধানমন্ত্রীর সিদ্ধান্ত। মন্ত্রণালয়ে ভারপ্রাপ্ত মন্ত্রী আসবেন কি না এ বিষয়েও সিদ্ধান্ত নেবেন প্রধানমন্ত্রীই।

