প্রধান খবর

ইরানে মাংসের বাজারে চরম সংকট

ইরানে বর্তমানে একজন শ্রমিকের মাসিক সর্বনিম্ন মজুরি ১০০ ডলারেরও কম, আর এই সীমিত আয়ের মধ্যে মাংস কেনা এখন অনেক পরিবারের জন্য প্রায় অসম্ভব হয়ে উঠেছে। তেহরানের এক মধ্যবয়সী নারী আল-জাজিরাকে জানান, তিনি তিন সপ্তাহে একবার মাংস কিনে রান্না করতে পারেন। তার ভাষায়, তাদের এলাকায় মাংস এখন “বিলাসী পণ্য”। অনেক পরিবার লাল মাংসের পরিবর্তে মুরগি, ডিম বা ডালজাতীয় খাবারের ওপর নির্ভর করছে, যদিও এসব পণ্যের দামও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

মাংস প্রক্রিয়াজাতকরণ শিল্পের প্রতিনিধি মাসুদ রাসুলি রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা মেহরকে বলেন, গত বছরের তুলনায় দেশে লাল মাংসের চাহিদা প্রায় ৫০ শতাংশ কমে গেছে। মার্কিন নিষেধাজ্ঞার প্রভাব সামাল দিতে কিছু মাংস আমদানি করা হলেও বাজারে চাহিদা এতটাই কম যে স্থানীয় উৎপাদন দিয়েই প্রয়োজন মেটানো সম্ভব হচ্ছে। তার মতে, মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কমে যাওয়াই এই সংকটের মূল কারণ।

শ্রমজীবী বিষয়ক সংবাদমাধ্যম ইলনা জানিয়েছে, ঈদ উপলক্ষে সরকার নির্ধারিত প্রতি কেজি মাংসের দাম এখন প্রায় ১০ বছর আগে ৫০ কেজি ওজনের একটি জীবিত ভেড়ার মূল্যের সমান। দক্ষিণ-পশ্চিম তেহরানের একটি কসাইখানার কর্মী জানান, সরবরাহকারী পর্যায়ে দাম বাড়ার কারণে গত কয়েক মাসে তাদেরও কয়েক দফা মাংসের দাম বাড়াতে হয়েছে।

এ অবস্থায় সাধারণ মানুষের চাপ কমাতে ইরান সরকার ভর্তুকি মূল্যে কোরবানির মাংস বিক্রির উদ্যোগ নিয়েছে। ক্রমবর্ধমান মূল্যস্ফীতি, নিষেধাজ্ঞা এবং বাজার অস্থিরতার মধ্যে এই উদ্যোগ কিছুটা স্বস্তি দিলেও সামগ্রিক সংকট কাটাতে আরও কার্যকর পদক্ষেপ প্রয়োজন বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *