প্রধান খবর

ঈদের দ্বিতীয় দিনেও পশু কোরবানি: আহত হয়ে পঙ্গু হাসপাতালে ভর্তি ১৮

যথাযথ ধর্মীয় মর্যাদা ও ভাবগাম্ভীর্যের মধ্য দিয়ে রাজধানীসহ সারাদেশে উদযাপিত হচ্ছে মুসলমানদের অন্যতম বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব পবিত্র ঈদুল আজহা। উৎসবের দ্বিতীয় দিনেও আজ শুক্রবার রাজধানীসহ দেশের বিভিন্ন স্থানে পশু কোরবানির কার্যক্রম চলমান রয়েছে। তবে দুই দিনের এই কোরবানি প্রক্রিয়ায় অসাবধানতার কারণে পশুর লাথি এবং ধারালো অস্ত্রের আঘাতে অনেকের আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

রাজধানীর আগারগাঁওয়ে অবস্থিত জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠান (নিটোর) বা পঙ্গু হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, পশু কোরবানিসংক্রান্ত কারণে আহত হয়ে গত বৃহস্পতিবার রাত ১২টার পর থেকে আজ শুক্রবার বিকেল ৩টা পর্যন্ত মোট ১৮ জন রোগী হাসপাতালটিতে চিকিৎসা নিয়েছেন।

হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানান, ঈদের প্রথম দিনের তুলনায় আজ রোগীর চাপ কিছুটা কম হলেও অসতর্কতার কারণে আহতের ঘটনা ঘটছেই। কেউ পশুর শিং বা লাথির আঘাতে হাড় ভাঙা নিয়ে এসেছেন, আবার কেউ মাংস কাটার সময় ধারালো ছুরির আঘাতে মারাত্মক জখম হয়েছেন।

জাতীয় অর্থোপেডিক হাসপাতাল ও পুনর্বাসন প্রতিষ্ঠানের (নিটোর) অর্থোপেডিক, স্পাইন অ্যান্ড ট্রমা সার্জারি বিভাগের সিনিয়র কনসালটেন্ট (অর্থো-সার্জারি) ডা. নির্মল কান্তি বিশ্বাস সার্বিক পরিস্থিতির সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, “ঈদের আগের রাত এবং প্রথম দিনে কোরবানিসংক্রান্ত কারণে আহত হয়ে মোট ১৪২ জন রোগী আমাদের হাসপাতালে এসেছিলেন। তাদের প্রায় সবারই কাটিং ইনজুরি (ধারালো অস্ত্রের আঘাত) এবং ভারী আঘাতপ্রাপ্ত ইনজুরি ছিল। আর আজ ঈদের দ্বিতীয় দিনে গত রাত ১২টার পর থেকে বিকেল ৩টা পর্যন্ত কোরবানি দিতে গিয়ে নতুন করে আহত আরও ১৮ জন রোগী আমাদের এখানে চিকিৎসা নিতে এসেছেন।”

চিকিৎসকদের মতে, অভিজ্ঞ কসাইয়ের অভাব এবং তাড়াহুড়ো করে পশুর চামড়া ছাড়ানো বা মাংস কাটতে গিয়েই এই ধরনের দুর্ঘটনা বেশি ঘটে থাকে। বিশেষ করে অপেশাদার যুবকেরা যখন কোরবানির কাজে অংশ নেন, তখন অসাবধানতাবশত বড় ধরনের জখমের শিকার হন।

এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে কোরবানির পশু শক্তভাবে নিয়ন্ত্রণ করা এবং ধারালো সরঞ্জাম ব্যবহারের সময় সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *