জাকার্তায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে ‘স্ট্যাটিস্টিকস ইন্দোনেশিয়া’ (বিপিএস)-এর প্রধান আমালিয়া আদিনিংগার উইদিয়াসান্তি জানান, চলতি বছরের প্রথম প্রান্তিকে ইন্দোনেশিয়ার অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি গত বছরের শেষ তিন মাসের ৫.৪ শতাংশের তুলনায় আরও বেশি হয়েছে। এই প্রবৃদ্ধিকে তিনি ইতিবাচক অগ্রগতি হিসেবে দেখছেন।
ইন্দোনেশিয়ার প্রেসিডেন্ট প্রবোয়ো সুবিয়ানতো ২০২৯ সালের মধ্যে দেশের প্রবৃদ্ধির হার ৫.১ শতাংশ থেকে বাড়িয়ে ৮ শতাংশে উন্নীত করার লক্ষ্য নির্ধারণ করেছেন। এই লক্ষ্য অর্জনে সরকারি ব্যয় বাড়ানোর পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। আমালিয়া জানান, গত বছরের একই সময়ের তুলনায় এ বছরের প্রথম প্রান্তিকে সরকারি ব্যয় বেড়েছে ২১ শতাংশের বেশি।
তবে প্রবৃদ্ধির এই তথ্য নিয়ে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ক্যাপিটাল ইকোনমিকসের এশিয়া অঞ্চলের জ্যেষ্ঠ অর্থনীতিবিদ গ্যারেথ লেদার। তার মতে, সুবিয়ানতো সরকারের নীতিগুলো ক্রমেই ‘জনতুষ্টিবাদী ও হস্তক্ষেপমূলক’ হয়ে উঠছে, যা দীর্ঘমেয়াদে অর্থনীতির জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে।
এদিকে, বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারের অস্থিরতা ইন্দোনেশিয়ার ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করছে। গত মাসে দেশটির অর্থমন্ত্রী এয়ারলাঙ্গা হারতার্তো জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের কারণে তেলের দাম বাড়লেও আগামী ১০ মাস পর্যন্ত জ্বালানি ভর্তুকি কমানো ছাড়াই পরিস্থিতি সামাল দিতে পারবে ইন্দোনেশিয়া। যদিও দেশটি তেল উৎপাদনকারী হলেও বর্তমানে নিট আমদানিকারক, এবং অভ্যন্তরীণ জ্বালানিতে বড় অঙ্কের ভর্তুকি দিয়ে থাকে।
আগে ইন্দোনেশিয়ার মোট তেলের ২০ থেকে ২৫ শতাংশ আসত মধ্যপ্রাচ্য থেকে। এখন তারা রাশিয়ার সঙ্গে নতুন তেল চুক্তি করেছে এবং বিকল্প উৎস হিসেবে আফ্রিকা, যুক্তরাষ্ট্র ও ভেনেজুয়েলার দিকেও নজর দিচ্ছে। কারণ বিশ্ববাজারে তেলের দাম প্রতি ডলারে একবার বাড়লে জাতীয় বাজেটে প্রায় ৬.৮ ট্রিলিয়ন রুপির অতিরিক্ত চাপ পড়ে।
২০২৬ সালের বাজেটে সরকার তেলের দাম ব্যারেলপ্রতি ৭০ ডলার ধরে হিসাব করেছিল। কিন্তু ইরান-ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত এবং তেহরানের পাল্টা পদক্ষেপের ফলে দাম ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলার ছাড়িয়ে যায়, যা ইন্দোনেশিয়ার অর্থনীতির ওপর নতুন চাপ তৈরি করেছে।

