পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত আজাদ কাশ্মীরের (এজেকে) রাওয়ালকোটে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী এবং আন্দোলনকারীদের মধ্যে ব্যাপক সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। নিষিদ্ধ ঘোষিত ‘যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটি’র সমর্থকদের সাথে পুলিশের এই রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ফলে অন্তত ৭ জন বেসামরিক ব্যক্তি নিহত হয়েছেন।
আজাদ কাশ্মীরের পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) লিয়াকত আলী মালিক গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, গত রোববার (৭ জুন) দিনভর চলা এই সহিংসতায় আইনশৃঙ্খলারক্ষা বাহিনীর ২৩ জন সদস্য গুরুতর আহত হয়েছেন। সরকারি সূত্রের বরাত দিয়ে জানা গেছে, সংঘর্ষের পর পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে রোববার গভীর রাতে চিরুনি অভিযান চালিয়ে অন্তত ৩০ জনকে আটক করেছে পুলিশ। রাওয়ালকোটে গত কয়েক দিন ধরেই চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে। এর আগেরও সহিংস বিক্ষোভে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর ৪ সদস্য প্রাণ হারিয়েছিলেন।
কর্তৃপক্ষের দাবি, রোববার আন্দোলনকারীরা অত্যন্ত উগ্র রূপ ধারণ করে এবং রাওয়ালকোটের কম্বাইন্ড মিলিটারি হাসপাতালে (সিএমএইচ) আকস্মিক হামলা চালায়। হাসপাতাল ভাঙচুর ও চিকিৎসা কার্যক্রমে বাধা দেওয়ার এই ঘটনা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
স্থানীয় সূত্রগুলো জানাচ্ছে, এই তীব্র উত্তেজনার সূত্রপাত হয়েছিল গত শুক্রবার রাতে। সে রাতে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সাথে বিক্ষোভকারীদের সংঘর্ষের সময় এক স্থানীয় ব্যবসায়ী গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন বলে অভিযোগ ওঠে। ওই মৃত্যুর ঘটনাকে কেন্দ্র করেই ক্ষোভে ফেটে পড়ে যৌথ আওয়ামী অ্যাকশন কমিটির সমর্থকেরা, যা পরবর্তীতে পুলিশ ও বেসামরিক নাগরিকদের মধ্যে এই রক্তক্ষয়ী সংঘর্ষে রূপ নেয়। পাকিস্তানের শীর্ষস্থানীয় সংবাদমাধ্যম ‘দ্য ডন’-এর প্রতিবেদনে এই তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। বর্তমানে ওই এলাকায় অতিরিক্ত পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন রয়েছে।

