প্রধান খবর

রমজানে ঘুমের ঘাটতি: চিকিৎসকদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ

শীতকালীন সময়ে রমজান হওয়ায় রোজার দৈর্ঘ্য তুলনামূলক কম হলেও ঘুমের অনিয়ম ও ঘাটতি একটি বড় স্বাস্থ্যগত চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়ায় বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তাঁদের মতে, রমজানে ক্লান্তি, মাথাব্যথা ও মনোযোগের অভাবের প্রধান কারণ অনেক সময় রোজা নয়, বরং অপর্যাপ্ত ও অনিয়মিত ঘুম।

সংযুক্ত আরব আমিরাতের এনএমসি রয়্যাল ফ্যামিলি মেডিকেল সেন্টারের ফ্যামিলি মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. মাহেজাবিন মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ জানান, রমজান শুরু হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে হঠাৎ ঘুমের সময়সূচি পরিবর্তন করা শরীরের স্বাভাবিক জৈবঘড়িকে ব্যাহত করে। এতে ক্লান্তি, মেজাজের পরিবর্তন ও কর্মক্ষমতা হ্রাস পেতে পারে। তাই রমজানের আগে ধীরে ধীরে ঘুম ও জাগরণের সময় এগিয়ে আনার পরামর্শ দেন তিনি।

চিকিৎসকদের মতে, রাতে একটানা অন্তত ৪ থেকে ৬ ঘণ্টা ঘুম নিশ্চিত করা জরুরি। প্রয়োজনে দিনের বেলায় স্বল্প সময়ের ঘুম নেওয়া যেতে পারে, তবে সেটি যেন মূল রাতের ঘুমের ব্যাঘাত না ঘটায়। আলো, খাবারের ধরন এবং স্ক্রিন ব্যবহারের ক্ষেত্রেও সচেতন থাকার ওপর জোর দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।

এদিকে আবুধাবির বুরজিল মেডিকেল সিটির স্লিপ মেডিসিন বিশেষজ্ঞ ডা. হুমাম শাকাকি বলেন, পর্যাপ্ত ঘুম ছাড়া ভালো খাবারও শরীরকে সতেজ রাখতে পারে না। ঘুমের ঘাটতির ফলে মনোযোগ কমে যাওয়া, বিরক্তি বৃদ্ধি, মানসিক অবসাদ ও রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা হ্রাসের ঝুঁকি বাড়ে।

চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী, তারাবির নামাজের পর মূল ঘুম, সেহরির জন্য জাগ্রত হওয়া এবং প্রয়োজনে দিনের বেলায় ২০–৩০ মিনিটের স্বল্প বিশ্রাম এই রুটিন অনুসরণ করলে রমজানে শারীরিক ও মানসিক সুস্থতা বজায় রাখা সম্ভব।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *