আগামী ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট সামনে রেখে দেশে ভ্যাট কাঠামো আরও সহজ, স্বচ্ছ ও প্রযুক্তিনির্ভর করার দাবি জোরালো হয়েছে। অর্থনীতিবিদ, ব্যবসায়ী ও ভ্যাট বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধুমাত্র করহার বৃদ্ধি নয়; বরং ব্যবসাবান্ধব ও আধুনিক করব্যবস্থা গড়ে তুললেই দীর্ঘমেয়াদে রাজস্ব আহরণ বাড়ানো সম্ভব হবে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, বর্তমান ভ্যাট আইনের জটিলতা ও অতিরিক্ত ব্যাখ্যানির্ভরতা ব্যবসায়িক ব্যয় বাড়াচ্ছে এবং বিনিয়োগকারীদের মধ্যে অনিশ্চয়তা সৃষ্টি করছে। তারা ভ্যাট ব্যবস্থায় সরলীকরণ, ডিজিটাল অর্থনীতির সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ নীতিমালা এবং স্বেচ্ছায় কর পরিপালনের পরিবেশ তৈরির ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন।
জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের চেয়ারম্যান আব্দুর রহমান খান বলেছেন, ভবিষ্যতের কর প্রশাসন হবে অটোমেশনভিত্তিক ও করদাতাবান্ধব। তিনি জানান, করদাতা ও প্রশাসনের মধ্যে অপ্রয়োজনীয় জটিলতা কমিয়ে প্রযুক্তিনির্ভর ব্যবস্থা গড়ে তুলতে সরকার কাজ করছে।
এফবিসিসিআইয়ের সাবেক সভাপতি মীর নাসির হোসেন বলেন, জটিল করব্যবস্থা ব্যবসার ব্যয় বাড়ায় এবং ক্ষুদ্র ও মাঝারি উদ্যোক্তাদের আনুষ্ঠানিক কর কাঠামোর বাইরে রাখে। তাই করহার বাড়ানোর পরিবর্তে করের আওতা সম্প্রসারণে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
অন্যদিকে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইকোনমিক রিসার্চ (সিএসইআর) ভ্যাট আইনের বিভিন্ন সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে ‘অর্থনৈতিক কার্যক্রম’ সংজ্ঞা সরলীকরণ, ডিজিটাল সেবাকে আমদানির আওতায় আনা এবং কর গণনার পদ্ধতি সহজ করা। বিশেষজ্ঞদের মতে, এসব উদ্যোগ বাস্তবায়িত হলে ব্যবসা পরিচালনায় স্বচ্ছতা ও পূর্বানুমানযোগ্যতা বাড়বে।

