ঢাকার ট্রাফিক বহু বছর ধরে নগরব্যবস্থাপনার ব্যর্থতার প্রতীক হয়ে আছে। প্রতিদিনের যানজট, সিগন্যাল অমান্য, উল্টো পথে গাড়ি চালানো, ফুটপাত দখল সব মিলিয়ে রাজধানীর সড়ক যেন এক অনিয়ন্ত্রিত পরীক্ষাগার। এমন বাস্তবতার মধ্যে নতুন সরকারের স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম চালুর উদ্যোগটি নিঃসন্দেহে একটি ভিন্নধর্মী সূচনা।
কার্ড বিতরণের মতো প্রতীকী পদক্ষেপ নয়, বরং বাস্তব পরিবর্তনের সম্ভাবনা তৈরি করেছে এআই-নির্ভর জরিমানা ব্যবস্থা। ফেসবুক নিউজফিডে এখন সবচেয়ে আলোচিত বিষয় এই প্রযুক্তি, যা ঢাকার রাস্তায় আচরণগত পরিবর্তন আনতে শুরু করেছে।
দীর্ঘদিন ধরে ঢাকার সড়কে নিয়ম ভাঙা ছিল প্রায় শাস্তিহীন অভ্যাস। ট্রাফিক পুলিশের সীমিত জনবল, দুর্নীতি, রাজনৈতিক প্রভাব সব মিলিয়ে আইন প্রয়োগ ছিল দুর্বল। কিন্তু ক্যামেরা-নির্ভর জরিমানা ব্যবস্থা চালুর পর পরিস্থিতি বদলাতে শুরু করেছে।
সিগন্যাল ভাঙলেই জরিমানার নোটিশ পৌঁছে যাচ্ছে স্মার্টফোনে, আর এই স্বয়ংক্রিয়তার ফলে ‘চেনাজানা দেখানো’ বা ‘মানুষ চেনা’ এসব পুরোনো কৌশল আর কার্যকর থাকছে না। ফলে সিগন্যাল মানার প্রবণতা বেড়েছে, গাড়ি থামানোর শৃঙ্খলা তৈরি হচ্ছে। যদি এই ধারাবাহিকতা বজায় থাকে, ঢাকার রাস্তায় অস্থিরতা ও বিশৃঙ্খলা উল্লেখযোগ্যভাবে কমতে পারে।
তবে প্রযুক্তি একা সমস্যার সমাধান নয়। ঢাকার ট্রাফিকের মূল সংকট কাঠামোগত রুট পরিকল্পনার অভাব, গণপরিবহনের বিশৃঙ্খলা, ফুটপাত দখলদারদের দৌরাত্ম্য, আর বাস মালিকদের সিন্ডিকেটের সর্বগ্রাসী নিয়ন্ত্রণ। এই বাস্তবতায় স্মার্ট ট্রাফিক সিস্টেম একটি ভালো সূচনা হলেও, এটি টেকসই করতে হলে রাজনৈতিক সদিচ্ছা ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা অপরিহার্য। বিশেষ করে সিন্ডিকেটের প্রভাব ভাঙা ছাড়া কোনো সংস্কারই দীর্ঘস্থায়ী হবে না।

