ভয়াবহ চ্যালেঞ্জের মুখে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী

দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধ এবং বহুমুখী ফ্রন্টে সামরিক তৎপরতা অব্যাহত থাকায় ভয়াবহ জন সংকটের মুখে পড়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। রোববার (১০ মে) ইসরায়েলি সংসদের (নেসেট) পররাষ্ট্র ও নিরাপত্তা কমিটির এক জরুরি বৈঠকে সেনাপ্রধান ইয়াল জামির এই সংকটের কথা তুলে ধরেন। তিনি স্পষ্টভাবে জানান, বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় অবিলম্বে অতিরিক্ত সৈন্য নিয়োগ করা না হলে সেনাবাহিনীর অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।

ইসরায়েলি সংবাদমাধ্যম ‘ইয়েদিওত আহরনোত’-এর প্রতিবেদন অনুযায়ী, সেনাপ্রধান ইয়াল জামির বৈঠকে উল্লেখ করেন যে, ইসরায়েল বর্তমানে কেবল গাজা নয়, বরং লেবাননের হিজবুল্লাহ এবং ইরানের বিরুদ্ধেও একযোগে বহুমুখী ফ্রন্টে যুদ্ধের মধ্যে রয়েছে। যদিও বর্তমানে সাময়িক বিরতি চলছে, তবুও কৌশলগত কারণে ইসরায়েলি বাহিনীর সামরিক তৎপরতা ও সতর্কাবস্থা এক মুহূর্তের জন্যও শিথিল করার সুযোগ নেই।

জামির বলেন, “আমি কোনো রাজনৈতিক বা আইনি বিতর্ক নিয়ে চিন্তিত নই। আমার একমাত্র লক্ষ্য হলো শত্রুকে পরাজিত করা। আর এই লক্ষ্য অর্জনে সেনাবাহিনীর সক্ষমতা টেকসই করতে হলে এখনই নতুন জনবল নিশ্চিত করা অপরিহার্য।”

সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ইফি দেফরিন জানিয়েছেন, বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আইডিএফ-এর জন্য অন্তত ১৫ হাজার অতিরিক্ত সৈন্য প্রয়োজন। এর মধ্যে অন্তত ৭ থেকে ৮ হাজার সৈন্য সরাসরি যুদ্ধক্ষেত্রে লড়ার মতো দক্ষ হতে হবে।

এর আগে গত মার্চ মাসেই সেনাপ্রধান সতর্ক করেছিলেন যে, কট্টর অর্থোডক্স বা ‘হারিদি’ ইহুদিদের সামরিক বাহিনীতে বাধ্যতামূলক নিয়োগের আইন পাসে সরকারের ব্যর্থতা সেনাবাহিনীকে ভেতর থেকে দুর্বল করে দিচ্ছে। বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ ৩৬ মাস পর্যন্ত বৃদ্ধি না করা এবং রিজার্ভ সৈন্যদের ওপর অতিরিক্ত চাপের ফলে সামরিক শৃঙ্খলায় বিঘ্ন ঘটছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ হলো হারিদি বা কট্টর অর্থোডক্স ইহুদি। ঐতিহাসিকভাবেই তারা সামরিক সেবার পরিবর্তে কেবল ধর্মীয় গ্রন্থ ‘তোরাহ’ পাঠে মনোনিবেশ করার বিশেষ সুযোগ পেয়ে আসছে। সাধারণ নাগরিকদের জন্য ১৮ বছর বয়সে সেনাবাহিনীতে যোগদান বাধ্যতামূলক হলেও হারিদিদের এই বিশেষ ছাড় দীর্ঘকাল ধরে ইসরায়েলি সমাজে তীব্র বৈষম্য ও বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

বর্তমান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে সাধারণ জনগণের একটি বড় অংশ হারিদিদের সামরিক সেবায় অন্তর্ভুক্ত করার দাবি তুলছে। সেনাপ্রধানের এই সাম্প্রতিক কড়া বার্তা ইসরায়েলের বর্তমান সরকারকে নতুন করে রাজনৈতিক ও সামাজিক চাপের মুখে ফেলেছে। সামরিক নেতৃত্বের দাবি, দ্রুত কার্যকর নিয়োগ আইন প্রণয়ন না করলে এই সংকট জাতীয় নিরাপত্তাকে হুমকিতে ফেলতে পারে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *