পশ্চিমবঙ্গের বিধানসভা রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু ভবানিপুর আসনের উপ-নির্বাচনী ফলাফল ঘিরে তৈরি হয়েছে তীব্র রাজনৈতিক উত্তেজনা। বর্তমান মুখ্যমন্ত্রী মমতা ব্যানার্জিকে পরাজিত করে নিজের জয়কে ‘হিন্দুত্ববাদের জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন বিজেপি নেতা শুভেন্দু অধিকারী। সোমবার নির্বাচনী ফলাফল প্রকাশের পর সংবাদমাধ্যমের মুখোমুখি হয়ে তিনি এই বিতর্কিত ও কড়া মন্তব্য করেন।
শুভেন্দু অধিকারী দাবি করেছেন, এই নির্বাচনে ভোটারদের মাঝে সুস্পষ্ট সাম্প্রদায়িক বিভাজন দেখা গিয়েছে। তিনি উল্লেখ করেন যে, মুসলিম ভোটাররা একতরফাভাবে মমতা ব্যানার্জিকে ভোট দিয়েছেন। বিশেষ করে ৭৭ নম্বর ওয়ার্ডের উদাহরণ টেনে তিনি বলেন, সেখানে আসা মুসলিম ভোটারদের প্রায় সবাই তৃণমূল প্রার্থীকে সমর্থন করেছেন।
শুভেন্দু আরও জানান, “মুসলিমরা আমাকে ভোট দেয়নি, তারা প্রকাশ্যেই মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়কে ভোট দিয়েছে। কিন্তু হিন্দু, শিখ, জৈন এবং বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা আমাকে আশীর্বাদ করেছেন বলেই আমি ১৫ হাজারেরও বেশি ভোটের ব্যবধানে জয়ী হতে পেরেছি। তাই এই জয় আসলে সনাতনী হিন্দুত্ববাদেরই জয়।”
তৃণমূল নেত্রীর এই পরাজয়কে তাঁর রাজনৈতিক ক্যারিয়ারের ইতি হিসেবে দেখছেন শুভেন্দু। তিনি মন্তব্য করেন, ভবানিপুরের এই ফলাফলের মাধ্যমে পশ্চিমবঙ্গের মানুষের রায় প্রতিফলিত হয়েছে এবং মমতার দীর্ঘ রাজনৈতিক জীবনের কার্যত অবসান ঘটেছে। তিনি অভিযোগ করেন, তুষ্টিকরণের রাজনীতির কারণেই মমতা ব্যানার্জি সাধারণ মানুষের আস্থা হারিয়েছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, শুভেন্দু অধিকারীর এই বক্তব্য সরাসরি সাম্প্রদায়িক মেরুকরণের ইঙ্গিত দিচ্ছে। ভারতের মতো ধর্মনিরপেক্ষ রাষ্ট্রে ভোটারদের ধর্মীয় পরিচয়ে ভাগ করা এবং জয়কে কোনো নির্দিষ্ট ধর্মের জয় হিসেবে ঘোষণা করা নিয়ে ইতিপূর্বেও বিতর্ক হয়েছে। তবে শুভেন্দুর এই জয় তৃণমূল শিবিরের জন্য এক বিশাল ধাক্কা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে, কারণ ভবানিপুরকে মমতা ব্যানার্জির খাসতালুক হিসেবে মনে করা হতো।

