যুদ্ধবিরতি চুক্তির মধ্যেই দক্ষিণ লেবানন আবারও রণক্ষেত্রে পরিণত হয়েছে। গত রবিবার (২৬ এপ্রিল) দক্ষিণ লেবাননে সামরিক অভিযান পরিচালনার সময় হিজবুল্লাহর প্রতিরোধ ও অতর্কিত হামলায় এক ইসরায়েলি সেনা নিহত হয়েছেন। এই ঘটনায় আরও ছয়জন সেনা সদস্য আহত হওয়ার খবর নিশ্চিত করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
আইডিএফ-এর বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, নিহত সেনার নাম সার্জেন্ট ইদান ফুকস (১৯)। তিনি ইসরায়েলি বাহিনীর ৭ম ব্রিগেডের ৭৭তম ব্যাটালিয়নের সদস্য ছিলেন। দক্ষিণ লেবাননের একটি এলাকায় অভিযান চলাকালীন হিজবুল্লাহর সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষে তিনি প্রাণ হারান। আহত ৬ জনের মধ্যে একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা ও তিনজন সদস্যের অবস্থা আশঙ্কাজনক। আহতদের উদ্ধার করে দ্রুত হেলিকপ্টার যোগে হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
সেনা নিহতের খবরের পর, গত রবিবার দিনভর লেবাননের বিভিন্ন প্রান্তে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন। লেবাননের স্থানীয় সংবাদমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, হামলার ফলে সীমান্তবর্তী এলাকার হাজার হাজার মানুষ আবারও ভিটেমাটি ছেড়ে নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে পাল্লা দিচ্ছেন।
লেবানন সরকার অভিযোগ করেছে যে, ইসরায়েলি বাহিনী প্রকাশ্যেই চুক্তির শর্ত ভঙ্গ করে দক্ষিণ লেবাননের জনবসতিতে আক্রমণ চালাচ্ছে। এর বিপরীতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, তারা কেবল নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এবং হিজবুল্লাহর যেকোনো সম্ভাব্য হামলা নস্যাৎ করতেই এই ‘প্রতিরক্ষামূলক’ অভিযান পরিচালনা করছেন।
রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, যুদ্ধবিরতি চুক্তির শর্তগুলো দুই পক্ষই তাদের নিজ নিজ সুবিধামতো ব্যাখ্যা করায় সীমান্ত এলাকায় সংঘাত থামছে না। বর্তমান পরিস্থিতিতে যদি এই পাল্টাপাল্টি হামলা বন্ধ না হয়, তবে পুরো শান্তি প্রক্রিয়া ভেস্তে যাওয়ার এবং পুনরায় যুদ্ধ শুরু হওয়ার তীব্র আশঙ্কা দেখা দিয়েছে।

