দাওয়াত না পেয়ে বিদ্যালয়ে তালা, বিএনপির ৬ নেতা আজীবন বহিষ্কার

গাজীপুরের শ্রীপুর উপজেলার বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি এবং শিক্ষক ও অফিস কক্ষে তালা দেওয়ার ঘটনায় অভিযুক্ত ছয় বিএনপি নেতাকে দল থেকে আজীবন বহিষ্কার করা হয়েছে। বুধবার (২২ এপ্রিল) সকালে শ্রীপুর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক আব্দুল মোতালেব ও সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদ স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই কঠোর শাস্তিমূলক ব্যবস্থার কথা জানানো হয়।

জানা গেছে, গত রোববার (১৯ এপ্রিল) সকালে বাঁশবাড়ি আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়ে এসএসসি পরীক্ষার্থীদের বিদায় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠান শুরুর কিছু সময় পর স্থানীয় ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সারোয়ার আউয়ালের নেতৃত্বে কয়েকজন নেতা সেখানে উপস্থিত হন। অনুষ্ঠানে কেন তাদের ‘দাওয়াত’ দেওয়া হয়নি—এই কারণ জানতে চেয়ে তারা শিক্ষকদের সাথে অসদাচরণ শুরু করেন।
প্রত্যক্ষদর্শীদের মতে, অভিযুক্তরা শিক্ষার্থীদের সামনেই শিক্ষকদের গালিগালাজ করেন এবং বাধা দিতে গেলে বিদ্যালয়ের অফিস সহায়ক আব্দুস সামাদকে মারধর করে মাইক্রোফোন কেড়ে নেন। এতে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মাঝে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়ে এবং অনুষ্ঠান পণ্ড হয়ে যায়। একপর্যায়ে তারা প্রধান শিক্ষকের কক্ষ ও অফিস কক্ষে তালা ঝুলিয়ে চলে যান। যদিও প্রায় এক ঘণ্টা পর স্থানীয়দের উত্তেজনার মুখে তারা পুনরায় এসে তালা খুলে দেন।

আজীবন বহিষ্কৃত নেতারা হলেন— গাজীপুর ইউনিয়নের ১ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সাবেক সাধারণ সম্পাদক মো. সারোয়ার আউয়াল, সাবেক সাংগঠনিক সম্পাদক আ. মান্নান মাস্টার, সাবেক যুগ্ম সম্পাদক মো. হাসমত আলী হাসু, এবং ওয়ার্ড বিএনপির সদস্য মো. আরমান আলী, মো. মাহবুব আলম ও মো. রফিকুল ইসলাম।
গাজীপুর ইউনিয়ন বিএনপির আহ্বায়ক এনামুল হক মনি জানান, ঘটনার পরপরই স্থানীয় সংসদ সদস্য অধ্যাপক ডা. এসএম রফিকুল ইসলাম বাচ্চু বিষয়টি তদন্ত করে ব্যবস্থা নিতে নির্দেশনা দেন। গত সোমবার ইউনিয়ন বিএনপির জরুরি সভায় উপস্থিত ২২ জন সদস্য সর্বসম্মতিক্রমে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান। ইউনিয়ন কমিটির প্রতিবেদনের ভিত্তিতেই উপজেলা বিএনপি আজীবন বহিষ্কারের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেয়।

উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব খাইরুল কবীর মন্ডল আজাদ বলেন, “শিক্ষার পরিবেশ বিঘ্নিত করা এবং একটি বিদ্যাপীঠে তালা লাগানো অত্যন্ত গর্হিত কাজ। দল এ ধরনের কোনো অপকর্ম বা বিশৃঙ্খলাকে প্রশ্রয় দেয় না। শিক্ষার পরিবেশ স্বাভাবিক রাখতে এবং জনমনে আস্থা ফেরাতে এই কঠোর বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়েছে।”

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *