জ্বালানি ঘাটতির প্রভাবে চট্টগ্রামে তীব্র বিদ্যুৎ সংকট দেখা দিয়েছে। একাধিক বিদ্যুৎকেন্দ্র উৎপাদন বন্ধ থাকায় নগরজুড়ে লোডশেডিং বেড়ে গিয়ে জনজীবনে চরম ভোগান্তি তৈরি হয়েছে। ভ্যাপসা গরমের মধ্যে ঘন ঘন বিদ্যুৎ বিভ্রাটে দৈনন্দিন জীবনযাত্রা ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি পানির সংকটও প্রকট আকার ধারণ করছে।
বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড ও সিস্টেম কন্ট্রোল সূত্রে জানা যায়, নগরীতে বিদ্যুতের চাহিদা ও সরবরাহের মধ্যে উল্লেখযোগ্য ঘাটতি তৈরি হয়েছে। উৎপাদন থাকা সত্ত্বেও জাতীয় গ্রিডে বিদ্যুৎ সরবরাহের কারণে স্থানীয় পর্যায়ে লোডশেডিং করতে হচ্ছে। দিনের বিভিন্ন সময়ে এ ঘাটতি আরও বাড়ছে, ফলে কয়েক দফায় বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার ঘটনা ঘটছে।
প্রাপ্ত তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রামের মোট ২৮টি বিদ্যুৎকেন্দ্রের মধ্যে বর্তমানে ১০টি কেন্দ্র বন্ধ রয়েছে। জ্বালানি সংকট ও গ্যাস সরবরাহ কমে যাওয়ায় এসব কেন্দ্র উৎপাদনে যেতে পারছে না। বড় কেন্দ্রগুলোর উৎপাদন কমে যাওয়ায় বিদ্যুৎ সরবরাহ অনেকাংশে সীমিত হয়ে পড়েছে এবং কিছু নির্দিষ্ট কেন্দ্রের ওপর নির্ভরতা বেড়েছে।
নগরীর বিভিন্ন এলাকায় দিনে চার থেকে পাঁচ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকার অভিযোগ পাওয়া গেছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে তা ফিরতে দীর্ঘ সময় লাগছে। এর ফলে বাসাবাড়িতে পানির পাম্প চালানো সম্ভব না হওয়ায় পানি সংকটও দেখা দিচ্ছে, যা নগরবাসীর দুর্ভোগ আরও বাড়িয়ে তুলছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, গ্যাস সরবরাহ স্বাভাবিক না হওয়া পর্যন্ত পরিস্থিতির দ্রুত উন্নতি কঠিন। তাপমাত্রা বৃদ্ধির সঙ্গে বিদ্যুতের চাহিদা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে, যা সামগ্রিক পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে।

