দুই শর্তে হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করল ইরান

দীর্ঘ সংঘাত ও অনিশ্চয়তা কাটিয়ে অবশেষে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌ-পথ হরমুজ প্রণালি, বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করে দিয়েছে ইরান। ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কোরের (আইআরজিসি) নৌবাহিনী বৃহস্পতিবার রাতে এই ঘোষণা দেয়। তবে বাণিজ্যিক কার্যক্রম শুরুর অনুমতি দিলেও কঠোর নিরাপত্তা বলয় বজায় রাখতে দুটি শর্তারোপ করেছে তেহরান।

আইআরজিসি নৌবাহিনীর পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলের সময় বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে প্রথমত, প্রণালির জন্য নির্ধারিত আন্তর্জাতিক রুট কঠোরভাবে অনুসরণ করতে হবে। দ্বিতীয়ত, প্রতিটি জাহাজকে এই জলপথ ব্যবহারের আগে আইআরজিসি নৌবাহিনীর কাছ থেকে বিশেষ অনুমতি নিতে হবে। আইআরজিসি স্পষ্ট জানিয়ে দিয়েছে, এই সুযোগ শুধুমাত্র বাণিজ্যিক জাহাজের জন্য; কোনো ধরনের সামরিক জাহাজ এই জলপথ ব্যবহার করতে পারবে না।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি এক বিবৃতিতে জানান, লেবানন ও ইসরায়েলের মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকরের পর এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। এর আগে গত ৭ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা হলেও লেবাননে ইসরায়েলি আগ্রাসন অব্যাহত থাকায় প্রণালিটি বন্ধ রেখেছিল ইরান। বৃহস্পতিবার রাতে আঞ্চলিক পরিস্থিতির প্রেক্ষাপটে চূড়ান্তভাবে এটি খুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।

গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যৌথভাবে ইরানে হামলা শুরু করার পর নিরাপত্তার স্বার্থে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয় তেহরান। আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্যমতে, যুদ্ধকালীন সময়ে এই জলপথে অন্তত ১৯টি বেসামরিক জাহাজে হামলার ঘটনা ঘটে। পশ্চিমা শক্তির হস্তক্ষেপ ঠেকাতে ইরান এই জলপথে নৌ-মাইন স্থাপন করেছিল, যা বিশ্বব্যাপী জ্বালানি তেলের বাজারে ব্যাপক অস্থিরতা সৃষ্টি করে। উল্লেখ্য, বিশ্বের মোট উত্তোলিত জ্বালানি তেলের একটি বড় অংশ এই সরু প্রণালি দিয়েই পরিবাহিত হয়।

সামরিক ও অর্থনৈতিক বিশ্লেষকরা ইরানের এই সিদ্ধান্তকে ইতিবাচক হিসেবে দেখছেন। তাদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়ার ফলে বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থা স্বাভাবিক হওয়ার পথ সুগম হবে। তবে আইআরজিসির আরোপিত শর্তাবলী এবং ওই অঞ্চলে সামরিক জাহাজের চলাচলে নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি ইঙ্গিত দেয় যে, তেহরান এখনো এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে চায়। আপাতত যুদ্ধবিরতির এই ১০ দিন বিশ্ব বাণিজ্যের জন্য স্বস্তির বার্তা নিয়ে এলেও, মেয়াদের পর পরিস্থিতি কোন দিকে মোড় নেয়, এখন সেটিই দেখার বিষয়।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *