AirlineRatings.com তাদের ওয়েবসাইটে গত ১৩ জানুয়ারি ২০২৬-এ বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন্সগুলোর একটি তালিকা প্রকাশ করে। বিশ্বব্যাপী প্রায় ৩২০টি এয়ারলাইন্সের ডেটা বিশ্লেষণ করে এই টপ ২৫ তালিকা তৈরি করা হয়েছে, যা আকাশপথে নিরাপদ ভ্রমণের ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ দিকনির্দেশনা প্রদান করে।
প্রতিষ্ঠানটির মতে, বর্তমান সময়ে বিশ্বের শীর্ষ এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে নিরাপত্তা ও যাত্রী সেবার মানের পার্থক্য খুবই কম হয়ে থাকে। তাই, ছোট ছোট পার্থক্যের ভিত্তিতে র্যাঙ্ক নির্ধারণ করা হলেও, তালিকাভুক্ত প্রতিটি এয়ারলাইন্সই আন্তর্জাতিক মান অনুযায়ী অত্যন্ত নিরাপদ বলে বিবেচিত হয়।
এই মূল্যায়নে দুর্ঘটনার হার, ফ্লাইট সংখ্যার তুলনায় ইনসিডেন্ট, বিমানের গড় বয়স, পাইলট প্রশিক্ষণ, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা অডিট এবং অপারেশনাল স্বচ্ছতা বিবেচনা করা হয়েছে। এর পাশাপাশি, টার্বুলেন্স মোকাবিলার এয়ারলাইন্সগুলোর সার্বিক সক্ষমতাকেও এখানে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি ২০২৬ সালের তালিকায় শীর্ষ নিরাপদ ফুল-সার্ভিস এয়ারলাইন্সগুলোর মধ্যে প্রথম স্থানে রয়েছে ইতিহাদ এয়ারওয়েজ। এই র্যাংকিংয়ে দ্বিতীয় স্থানে ক্যাথে প্যাসিফিক, তৃতীয় স্থানে কুয়ান্টাস, চতুর্থ স্থানে কাতার এয়ারওয়েজ এবং পঞ্চম স্থানে দুবাই ভিত্তিক এমিরেটস এয়ারলাইন্সের নাম উঠে এসেছে।
এছাড়া, ওয়েবসাইটের দেওয়া আপডেট তথ্য অনুযায়ী, বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ এয়ারলাইন্সের র্যাংকিংয়ে ষষ্ঠ স্থানে এয়ার নিউজিল্যান্ড, সপ্তম স্থানে সিঙ্গাপুর এয়ারলাইন্স, অষ্টম স্থানে ইভিএ এয়ার, নবম স্থানে ভার্জিন অস্ট্রেলিয়া এবং শীর্ষ দশম স্থানে রয়েছে কোরিয়ান এয়ারের নাম।
এর পাশাপাশি, তালিকায় ১১তম থেকে ২০তম পর্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এয়ারলাইন্সের মধ্যে স্টারলাক্স, তুর্কিশ এয়ারলাইন্স, ভার্জিন আটলান্টিক, জাপানের অল নিপ্পন এয়ারওয়েজ (ANA), আলাস্কা এয়ারলাইন্স, TAP এয়ার পর্তুগাল, SAS, ব্রিটিশ এয়ারওয়েজ, ভিয়েতনাম এয়ারলাইন্স এবং আইবেরিয়া এয়ারলাইন্সের নাম স্থান পেয়েছে।
এই এয়ারলাইন্সগুলো তাদের আধুনিক বিমান বহর, উন্নত প্রশিক্ষণ ব্যবস্থা এবং কঠোর নিরাপত্তা নীতিমালার বাস্তবায়নের মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী খ্যাতি অর্জন করেছে। অনেক এয়ারলাইন্স আবার নিয়মিতভাবে আন্তর্জাতিক অডিটে অংশ নেয় এবং নতুন প্রযুক্তি ব্যবহার করে সার্বিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত ও বিশ্বমানের করছে।
তবে, বিশ্বের সবচেয়ে নিরাপদ শীর্ষ ২৫টি এয়ারলাইন্সের তালিকায় দক্ষিণ এশিয়ার কোনো এয়ারলাইন্সের নাম স্থান না পেলেও সাম্প্রতিক বছরগুলোতে অঞ্চলটির সিভিল এভিয়েশন খাতে ইতিবাচক ও টেকসই পরিবর্তন লক্ষ করা যাচ্ছে। বিশেষ করে, আধুনিক বিমান সংযোজন, পাইলট প্রশিক্ষণ উন্নয়ন এবং আন্তর্জাতিক মান অনুসরণের মাধ্যমে ভারত, শ্রীলঙ্কা ও বাংলাদেশের এয়ারলাইন্সগুলো ধীরে ধীরে নিজেদের শক্ত অবস্থান তৈরি করছে।
সবমিলিয়ে বলা যায় যে, বৈশ্বিক এভিয়েশন খাতে বর্তমানে যাত্রীসেবা ও নিরাপত্তার মান আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আরও উন্নত ও ইতিবাচক হয়েছে। বিশেষ করে প্রযুক্তিগত উন্নয়ন, কঠোর আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা মানদণ্ড অনুসরণ এবং দক্ষ মানবসম্পদ ব্যবহার ও ব্যবস্থাপনার মাধ্যমে আকাশপথে ভ্রমণ দিন দিন আরও নিরাপদ হয়ে উঠছে।

