দীর্ঘদিন বন্ধ থাকার পর মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের প্রবেশ নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে। ২০২৪ সালের মে মাস থেকে নানা জটিলতায় বন্ধ থাকা এই বাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে সরকার উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক উদ্যোগ গ্রহণ করেছে, যা প্রবাসী শ্রমিকদের মধ্যে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে।
সরকারি নির্দেশনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রী আরিফুল হক চৌধুরীর নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধিদল ৮ এপ্রিল কুয়ালালামপুরে যাচ্ছেন। সফরকালে মালয়েশিয়ার সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে বৈঠকের পাশাপাশি শ্রমবাজার পুনরায় চালুর লক্ষ্যে একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) স্বাক্ষরের সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানা গেছে।
সংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশসহ ১৪টি সোর্স দেশের মধ্যে বর্তমানে বাংলাদেশ ছাড়া বাকি দেশগুলো থেকে শ্রমিক নিয়োগ অব্যাহত রেখেছে মালয়েশিয়া। অতিরিক্ত অভিবাসন ব্যয়, সিন্ডিকেটের প্রভাব, দুর্নীতি এবং শ্রমিকদের অধিকার সংক্রান্ত অভিযোগের কারণে অতীতে একাধিকবার এই শ্রমবাজার বন্ধ হয়েছে।
বর্তমানে প্রায় ৭ লাখ বৈধ বাংলাদেশি কর্মী মালয়েশিয়ায় কর্মরত রয়েছেন এবং তারা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছেন। পাশাপাশি উল্লেখযোগ্য সংখ্যক অবৈধ কর্মীর বৈধকরণ নিয়েও আলোচনা চলছে, যা শ্রমবাজার পুনরায় চালুর ক্ষেত্রে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শ্রমবাজার পুনরায় উন্মুক্ত করতে হলে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা, অভিবাসন ব্যয় কমানো এবং সিন্ডিকেটমুক্ত নিয়োগ ব্যবস্থা চালু করা জরুরি। সবকিছু অনুকূলে থাকলে, মালয়েশিয়ার শ্রমবাজারে বাংলাদেশি কর্মীদের পুনরায় প্রবেশের পথ সুগম হতে পারে।

