মানব মহাকাশ অভিযানের ইতিহাসে অর্ধশতাব্দী আগের রেকর্ড ভেঙে এক নতুন মাইলফলক স্পর্শ করেছেন আর্টেমিস-২ মিশনের নভোচারীরা। পৃথিবী থেকে মানুষের সর্বোচ্চ দূরত্বে ভ্রমণের পূর্ববর্তী সকল দৃষ্টান্ত পেছনে ফেলে তারা এখন মহাকাশের এক অজানা উচ্চতায় অবস্থান করছেন।
মঙ্গলবার বাংলাদেশ সময় ভোর ৪টা ৭ মিনিটে মহাকাশযানটি পৃথিবী থেকে তার সর্বোচ্চ দূরত্ব অতিক্রম করে। এই ঐতিহাসিক মাহেন্দ্রক্ষণে ওরিয়ন ক্যাপসুলটি পৃথিবী থেকে প্রায় ২ লাখ ৫২ হাজার ৭৫৭ মাইল দূরে অবস্থান করছিল, যা মহাকাশ বিজ্ঞানের ইতিহাসে এক বিশাল অর্জন।
আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যম সিএনএন ও বিবিসির লাইভ প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে, এর আগে ১৯৭০ সালে ঐতিহাসিক অ্যাপোলো-১৩ মিশনের নভোচারীরা ২ লাখ ৪৮ হাজার ৬৫৫ মাইল দূরত্ব অতিক্রম করে বিশ্বরেকর্ড গড়েছিলেন। আর্টেমিস-২ মিশনের চার নভোচারী সেই রেকর্ড ভেঙে আরও প্রায় ৪ হাজার ১০২ মাইল বেশি পথ পাড়ি দিয়েছেন। মিশন কন্ট্রোলের কর্মকর্তা কেলসি ইয়াং জানিয়েছেন, মহাকাশযানটি চাঁদের রহস্যময় দূরবর্তী অংশে (ফার সাইড) অবস্থানকালে পৃথিবীর সঙ্গে সাময়িকভাবে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিল, যা এই অভিযানের অন্যতম রোমাঞ্চকর ও চ্যালেঞ্জিং মুহূর্ত ছিল।
নাসার এই যুগান্তকারী মিশনে অংশ নিচ্ছেন চারজন দক্ষ নভোচারী—রিড ওয়াইজম্যান, ভিক্টর গ্লোভার, ক্রিস্টিনা কচ এবং কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির জেরেমি হ্যানসেন। গত ১ এপ্রিল উৎক্ষেপণের পর থেকে তারা সফলভাবে বিভিন্ন ধাপ অতিক্রম করছেন। যদিও এই মিশনে তারা চাঁদের বুকে সরাসরি অবতরণ করবেন না, তবে প্রায় ৭ ঘণ্টা ধরে চাঁদকে প্রদক্ষিণ (ফ্লাইবাই) করার সময় তারা চাঁদের এমন কিছু অংশ পর্যবেক্ষণ করছেন যা আগে কখনও মানুষের চোখে সরাসরি দেখা হয়নি। দীর্ঘ ৫০ বছর পর পৃথিবীর কক্ষপথ ছাড়িয়ে মানুষের এই ভ্রমণ ভবিষ্যৎ চন্দ্রাভিযান ও মঙ্গল অভিযানের পথ সুগম করবে।
যাত্রাপথে মহাকাশের মনোমুগ্ধকর দৃশ্য উপভোগ করার পাশাপাশি নভোচারীদের কিছু ছোটখাটো প্রযুক্তিগত সমস্যা, যেমন টয়লেট বিভ্রাট মোকাবিলা করতে হলেও মিশনের মূল লক্ষ্য অর্জনে তারা সম্পূর্ণ সফল। নাসা পরিচালিত এই আর্টেমিস-২ মিশন মূলত মানবজাতিকে আবারও চাঁদে ফিরিয়ে নেওয়ার দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনারই অংশ। পৃথিবী থেকে এই অভাবনীয় দূরত্বে পৌঁছানোর মাধ্যমে নভোচারীরা কেবল রেকর্ডই গড়েননি, বরং মহাকাশ গবেষণার ক্ষেত্রে এক নতুন যুগের সূচনা করেছেন যা আগামী প্রজন্মের বিজ্ঞানীদের জন্য অনুপ্রেরণা হয়ে থাকবে।

