ইরান সম্প্রতি তাদের নিজস্ব প্রযুক্তির তৈরি অত্যাধুনিক হাইপারসনিক গতির ফাতাহ–২ ক্ষেপণাস্ত্র উন্মোচন করেছে। ইরানের রাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত নিউজ এজেন্সির দেয়া তথ্যমতে, এটি বায়ুমণ্ডলে পুনঃপ্রবেশের সময় দ্বিতীয় ধাপের ইঞ্জিন ইগনিশনের মাধ্যমে কৌশল পরিবর্তন করতে এবং প্রয়োজনে গতিপথ পরিবর্তন করতে পারে।
ইরানের ফাত্তাহ–২ (Fattah-2) হাইপারসনিক ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সর্বোচ্চ রেঞ্জ প্রায় ১,৫০০ কিলোমিটার হতে পারে। এটি আসলে একটি হাইপারসনিক গ্লাইড ভেহিকল (HGV), যা টার্মিনাল ফেজে শব্দের চেয়ে প্রায় ১৩–১৫ গুণ বেশি (মাক ১৫ বা প্রায় ১৮,৫০০ কিমি/ঘণ্টা) গতিতে লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম বলে জানানো হয়েছে।
ফাতাহ–২ মিসাইল ইতোমধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন থাকা একাধিক এয়ার ডিফেন্স সিস্টেমের বাধা উপেক্ষা করেই তার সুনির্দিষ্ট টার্গেটে হিট করেছে, যা ইরানের সামরিক ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বিশ্বের সামনে উন্মোচিত করেছে।
তবে, ইরানের কাছে এই ধরনের উচ্চ প্রযুক্তির হাইপারসনিক মিসাইলের ভাণ্ডার সীমিত পর্যায়ে রয়েছে। তাই দীর্ঘ মেয়াদি যুদ্ধে আমেরিকার মতো দেশের বিরুদ্ধে টিকে থাকা হয়তো অনেকটাই চ্যালেঞ্জিং হয়ে যেতে পারে।
একাধিক আন্তর্জাতিক মিডিয়ার তথ্যসূত্র অনুযায়ী, ২০২৫ সালের হিসেব মতে ইরান গড়ে প্রতিমাসে প্রায় ১০০টি মিসাইল উৎপাদনে সক্ষম। তবে গত ২০২৫ সালের জুনের ১২ দিনের যুদ্ধে তাদের মিসাইল ভাণ্ডারের প্রায় অর্ধেক ধ্বংস হয় এবং অন্তত ১,৫০০টি নতুন মিসাইল উৎপাদন ব্যাহত হয়।
আর সেই যুদ্ধ শেষে ইরান দ্রুত পুনর্গঠন শুরু করে এবং চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত তাদের অস্ত্র ভাণ্ডারে প্রায় ২,৫০০–৩,০০০ মিসাইলে পৌঁছেছিল বলে অনুমান করা হয়। তবে বর্তমান (মার্চ ২০২৬) যুদ্ধে ইতোমধ্যেই ইরানের হয়তো প্রায় ৩০০টির বেশি মিসাইল লঞ্চার ধ্বংস হয়েছে বলে দাবি করা হয় পশ্চিমা মিডিয়ায়।
যা নিশ্চিতভাবেই ইরানের নিজস্ব প্রযুক্তির মিসাইলের উৎপাদন ও মজুদের চেয়েও একটি বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে রয়ে গেছে। কারণ মিসাইল দ্রুত উৎপাদন করা সম্ভব হলেও, বাস্তবে লঞ্চার (বিশেষ করে TEL – Transporter Erector Launcher) উৎপাদন ও প্রতিস্থাপন অনেকটাই জটিল ও সময়সাপেক্ষ কাজ হয়ে থাকে।
লেখা: সিরাজুর রহমান

