ঈদের আর মাত্র দুই দিন বাকি। প্রিয়জনের সঙ্গে উৎসব উদযাপনের টানে ঘরমুখো মানুষের ঢল নেমেছে দেশের প্রধান মহাসড়কগুলোতে। এর প্রভাব সবচেয়ে বেশি পড়েছে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কে, যেখানে যমুনা সেতু থেকে রাবনা বাইপাস পর্যন্ত প্রায় ২০ কিলোমিটারজুড়ে যানবাহনের ধীরগতি দেখা যাচ্ছে। অতিরিক্ত চাপের কারণে সকাল থেকেই চালক ও যাত্রীরা দীর্ঘ সময় আটকে থেকে ভোগান্তিতে পড়েছেন।
বৃহস্পতিবার সকালে এলেঙ্গা বাসস্টেশন, রাবনা বাইপাস ও আশেকপুর বাইপাস এলাকায় দেখা যায়, যাত্রীরা বাসের পাশাপাশি ট্রাক, পিকআপ, মাইক্রোবাস এমনকি খোলা যানবাহনেও ঝুঁকি নিয়ে বাড়ি ফিরছেন। গণপরিবহনে সংকট ও দ্বিগুণ ভাড়ার কারণে অনেকেই ভাড়ায়চালিত মোটরসাইকেল ও প্রাইভেটকার ব্যবহার করছেন। মহাসড়কে বাসের তুলনায় ব্যক্তিগত গাড়ি ও মোটরসাইকেলের সংখ্যা ছিল উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি।
এদিকে যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, মঙ্গলবার রাত ১২টা থেকে বুধবার রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় সেতু দিয়ে পার হয়েছে ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন। এর মধ্যে উত্তরবঙ্গমুখী যানবাহন ছিল ৩২ হাজার ৮৪০টি, যার বিপরীতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ টাকা। ঢাকামুখী যানবাহন ছিল ১৮ হাজার ৭৪৪টি, টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫০ টাকা। আগের দিনের তুলনায় বুধবার সেতু পারাপার হয়েছে আরও ৪ হাজার ৬৪১টি বেশি যানবাহন।
গত চার দিনে যমুনা সেতু দিয়ে মোট ১ লাখ ৫৯ হাজার ৬২৫টি যানবাহন পার হয়েছে, যার বিপরীতে টোল আদায় দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৫ লাখ ৪৩ হাজার ৮৫০ টাকা। ঈদকে কেন্দ্র করে এই বিপুল চাপ মহাসড়কের স্বাভাবিক গতি ব্যাহত করছে এবং যাত্রীদের যাত্রা আরও দীর্ঘ ও কষ্টকর করে তুলছে।

