প্রধান খবর

হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় যে বাজারে বড় ধাক্কা

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের চলমান যুদ্ধ শুধু তেল ও গ্যাসের বাজারেই অস্থিরতা তৈরি করেনি, বরং পুরো বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের বিঘ্ন সৃষ্টি করেছে। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথ হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় অ্যালুমিনিয়াম, হিলিয়াম, সালফার ও ইউরিয়ার মতো অপরিহার্য পণ্যের পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।

এই পণ্যগুলো বিমান শিল্প, সেমিকন্ডাক্টর উৎপাদন, সার শিল্প এবং চিকিৎসা প্রযুক্তির জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, ফলে সরবরাহ ব্যাঘাতের প্রভাব দ্রুতই বিশ্ববাজারে পড়তে শুরু করেছে।

ইতোমধ্যে অ্যালুমিনিয়ামের দাম কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। হরমুজ প্রণালি দিয়ে মধ্যপ্রাচ্যের অ্যালুমিনিয়াম রপ্তানির বড় অংশ পরিবাহিত হয়, তাই পথ বন্ধ থাকায় উৎপাদনকারী দেশগুলো রপ্তানি সংকটে পড়েছে।

একইভাবে কাতারের এলএনজি স্থাপনায় হামলার কারণে হিলিয়াম উৎপাদন বন্ধ হয়ে গেছে। হিলিয়াম সেমিকন্ডাক্টর, এমআরআই মেশিন এবং মহাকাশ প্রযুক্তিতে অপরিহার্য হওয়ায় এর ঘাটতি বৈশ্বিক শিল্পে নতুন চাপ তৈরি করছে।

সারের কাঁচামাল সালফার ও ইউরিয়ার সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় বৈশ্বিক খাদ্য সরবরাহও ঝুঁকির মুখে পড়েছে। সার সংকটের কারণে কৃষি উৎপাদন কমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে, যা খাদ্যের দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হলে বিভিন্ন শিল্প খাতে অস্থিরতা বাড়বে এবং বৈশ্বিক অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব আরও গভীর হবে।

বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডাব্লিউএফপি) জানিয়েছে, যুদ্ধ জুন পর্যন্ত চললে বিশ্বের প্রায় ৪ কোটি ৫০ লাখ মানুষ তীব্র খাদ্যসংকটে পড়তে পারে। এতে ক্ষুধাগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা বর্তমান রেকর্ড ৩১ কোটি ৯০ লাখ ছাড়িয়ে যেতে পারে। ডাব্লিউএফপির উপনির্বাহী পরিচালক কার্ল স্কাউ জেনেভায় বলেছেন, খাদ্য, জ্বালানি ও পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় বৈশ্বিক ক্ষুধার মাত্রা সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছাবে, যা একটি ভয়াবহ মানবিক পরিস্থিতির ইঙ্গিত দিচ্ছে।

 

 

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *