১১৫ রানের সহজ লক্ষ্য তাড়ায় পাকিস্তানি বোলারদের নাকের জল চোখের জল এক করে ছাড়ল টাইগার ব্যাটাররা। চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস নাহিদ রানার বিদ্ধংসী বোলিংয়ের পর আগ্রাসী ব্যাটিংয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ৮ উইকেটের বিশাল জয় পেল বাংলাদেশ।
মিরপুর শের-ই-বাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামে বুধবার টসে জিতে পাকিস্তানকে আগে ব্যাটে আমন্ত্রণ জানান বাংলাদেশ অধিনায়ক মেহেদী হাসান মিরাজ। ৩০.৪ ওভার ব্যাট করে ১১৪ রানে গুটিয়ে যায় সফরকারী দল। জবাবে লাল-সবুজের দল মাত্র ১৫.৪ বলে ২ উইকেট হারিয়ে ১১৫ রান তুলে জয়ের বন্দরে পা রাখে।
দলীয় ২৭ রানে স্বাগতিকরা প্রথম উইকেট হারায়। শাহীন শাহ আফ্রিদির করা তৃতীয় ওভারের চতুর্থ বলে পয়েন্টে শামিল হোসেনের হাতে ক্যাচ দিয়ে ১০ বলে ৪ রান করে ফেরেন সাইফ হাসান।
দ্বিতীয় উইকেটে দ্রুত রান তুলতে থাকেন তানজিদ হাসান তামিম ও নাজমুল হোসেন শান্ত। সপ্তম ওভারেই বাংলাদেশ দলীয় পঞ্চাশ রান ছুঁয়ে ফেলে। চোখের পলকে এই দুই ব্যাটার ৮২ রানের জুটি গড়েন।
টি-২০ মেজাজে খেলে ৩২ বলে ফিফটির দেখা পান তানজিদ তামিম। তাকে চমৎকারভাবে সমর্থন দিতে থাকেন শান্ত। জয় থেকে মাত্র ৬ রান দূরে থাকতে সাজঘরে ফেরেন শান্ত। বামহাতি এই ব্যাটার মোহাম্মাদ ওয়াসিমের বলে উইকেটরক্ষকের গ্লাভসবন্দী হওয়ার আগে ৩৩ বলে ৫টি চারে ৩৩ রানের ইনিংস খেলেন।
মিডল অর্ডারে নামার কথা থাকলেও পরিস্থিতি বিবেচনায় তিন নম্বরে নামেন লিটন দাস। ঠিক ইফতারের পূর্বে শেষ হয় একপেশে খেলা। দুই দল মাঠ ছাড়ার সময় পড়ে মাগরিবের আজান।
তানজিদ তামিম ৪২ বলে ৭ চার ও ৫ ছক্কায় ৬৭ ও লিটন ৩ রানে অপরাজিত থাকেন।
এর আগে নাহিদের বোলিং তোপে পাকিস্তানের ব্যাটাররা অসহায় আত্মসমর্পণ করেন। তাদের প্রতিরোধ গড়ার কোনো সুযোগ দেননি চাঁপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেস। একে একে ৫ উইকেট তুলে নিয়ে ভেঙে দেন সফরকারীদের ব্যাটিং মেরুদণ্ড।
বাংলাদেশ বোলারদের মধ্যে নাহিদ রানা ৭ ওভারে ২৪ রানে ৫ উইকেট নেন। চাপাইনবাবগঞ্জ এক্সপ্রেসের ক্যারিয়ারসেরা বোলিং এটি। এর আগে ৫ ওয়ানডে খেলে সর্বমোট ৫ উইকেট শিকার করেন তিনি। যার মধ্যে ২০২৪ সালে শারজায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে ৪০ রানে ২ উইকেট ছিল সর্বোচ্চ।
ওয়ানডেতে বাংলাদেশের বিপক্ষে পাকিস্তানের সর্বনিম্ন সংগ্রহের রেকর্ড এটি। এর আগে সর্বনিম্ন ১৬১ রানে অলআউট হয়েছিল তারা। ১৯৯৯ বিশ্বকাপে নর্দাম্পটনে বাংলাদেশের দেয়া ২২৪ রানের লক্ষ্যে নেমে ৬২ রানে হার দেখে পাকিস্তান। এছাড়া আগে ব্যাট করে বাংলাদেশের বিপক্ষে সর্বনিম্ন ১৭১ রানে অলআউট হয়েছিল পাকিস্তান। ২০১১ সালে চট্টগ্রামে ম্যাচটিতে ৫৮ রানে হার দেখেছিল স্বাগতিকরা।
পাকিস্তানের শুরুটা খারাপ হয়নি পাকিস্তানের। উদ্বোধনীতে ৪১ রান তোলেন সাহিবজাদা ফারহান ও মাজ সাদাকাত। দশম ওভারের শেষ বলে প্রথম সাফল্য পায় টিম টাইগার্স। ফারহানকে ফেরান নাহিদ। ৪ চারে ৩৮ বলে ২৭ রান করেন পাকিস্তানের অভিষিক্ত ওপেনার।
এরপর ছন্দ পতন ঘটে পাকিস্তান ব্যাটিং লাইনআপে। নাহিদ রানার গতির ঝড় সামাল দিতে না পেরে নিয়মিত উইকেট হারাতে থাকে তারা। টানা ৫ ব্যাটারকে ফেরান নাহিদ। ৬৯ রানে ৫ উইকট হারানোর পর চাপে পড়ে সফরকারীরা।
চাপ সামাল দেয়ার আগেই তাদের চেপে ধরেন মেহেদী হাসান। পরপর তিন উইকেট তুলে নেন বাংলাদেশ অধিনায়ক। ৮১ রানে ৮ উইকেট হারায় দলটি। এক রান যোগ করতেই আরও এক উইকেট হারায় পাকিস্তান। মোহাম্মদ ওয়াসিমকে ফেরান তাসকিন আহমেদ। শেষদিকে ফাহিম আশরাফের ব্যাটে ভর করে ১১৪ রানের সংগ্রহ গড়তে পারে পাকিস্তান। ৬ চার ও ১ ছক্কায় ৪৭ বলে ৩৭ রান করেন ফাহিম।
বাকি ব্যাটারদের মধ্যে কেবল দুজন দুই অঙ্কের ঘরে পৌঁছাতে পেরেছেন। সাদাকাত ১৮, মোহাম্মদ রিজওয়ান ১০ রান করেন।
নাহিদের ফাইফারের পাশাপাশি ৩ উইকেট নেন মেহেদী হাসান মিরাজ। টাইগার অধিনায়ক ১০ ওভারে ২৯ রান খরচ করেন। এছাড়া তাসকিন আহমেদ ও মোস্তাফিজুর রহমান নেন ১ উইকেট।

