২০২০ সালে করোনা মহামারির সময় বৈশ্বিক অর্থনীতিতে যে ধস নেমেছিল, যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ পৃথিবীকে আবার সেই সংকটের দিকে ঠেলে দিচ্ছে বলে সতর্ক করেছে বিশ্বের সর্ববৃহৎ ঋণদাতা সংস্থা বিশ্বব্যাংক। বৃহস্পতিবার প্রকাশিত ‘গ্লোবাল ইকোনমিক প্রোসপেক্ট’ প্রতিবেদনে সংস্থাটি জানায়, যুদ্ধের কারণে জ্বালানি বাজারে অস্থিরতা তৈরি হওয়ায় বহু দেশ অতিরিক্ত দামে জ্বালানি কিনতে বাধ্য হচ্ছে, যার প্রভাব সরাসরি পড়ছে মূল্যস্ফীতি ও প্রবৃদ্ধির ওপর।
প্রতিবেদনে বলা হয়, ২০২৬ সালের জানুয়ারিতে বিশ্বব্যাংক ধারণা করেছিল চলতি বছরের শেষ দিকে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি হবে ২.৯ শতাংশ। কিন্তু যুদ্ধের কারণে জ্বালানি সরবরাহ ব্যাহত হওয়ায় সেই পূর্বাভাস থেকে সরে আসতে বাধ্য হয়েছে সংস্থাটি। এখন তাদের নতুন অনুমান যদি দ্রুত যুদ্ধ শেষও হয়, তবুও বছরশেষে বৈশ্বিক প্রবৃদ্ধি সর্বোচ্চ ২.৪ শতাংশে পৌঁছাবে। সংঘাত দীর্ঘায়িত হলে প্রবৃদ্ধি আরও কমে যাওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। বিশ্বব্যাংক বলছে, “নিকট অতীতে করোনা মহামারির সময়ই এমন পরিস্থিতি দেখা গিয়েছিল।”
ইরানের পরমাণু প্রকল্প নিয়ে মতবিরোধের জেরে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি দেশটিতে ‘অপারেশন এপিক ফিউরি’ শুরু করে মার্কিন বাহিনী। পাল্টা প্রতিক্রিয়ায় ইরান হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ জারি করে এবং বিভিন্ন স্থানে জলমাইন পেতে রাখে। ১৬৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই প্রণালি বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য জলপথ বিশ্বের মোট জ্বালানিপণ্যের এক-পঞ্চমাংশ পরিবহন হয় এখান দিয়ে। সার ও রাসায়নিক পণ্যের বৈশ্বিক বাণিজ্যেও এর ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অবরোধের পর থেকে প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত হয়েছে। যুদ্ধের আগে যেখানে প্রতিদিন গড়ে ১২০টি বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল করত, বর্তমানে তা নেমে এসেছে মাত্র ৫ থেকে ৭টিতে। প্রণালীর বাইরে আটকে আছে শত শত জাহাজ, যা বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যবস্থায় বড় ধরনের চাপ তৈরি করেছে।
জাহাজ চলাচল ব্যাহত হওয়ায় জ্বালানি সরবরাহে ঘাটতি দেখা দিয়েছে। বিশ্বব্যাংকের হিসেব অনুযায়ী, জানুয়ারি থেকে মে পর্যন্ত পাঁচ মাসে প্রতি ব্যারেল অপরিশোধিত তেলের গড় মূল্য দাঁড়িয়েছে ৯৪ ডলার, যা গত বছরের একই সময়ের তুলনায় ৩৬ শতাংশ বেশি। এই মূল্যবৃদ্ধি বিশ্বব্যাপী উৎপাদন ব্যয় বাড়িয়ে দিচ্ছে এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোকে সবচেয়ে বেশি চাপে ফেলছে।

