বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে বড় মহাযজ্ঞের শুরুতেই গোল আর লাল কার্ডের রোমাঞ্চকর নাটকীয়তা। নান্দনিক উপস্থাপনা ও প্রযুক্তির মেলবন্ধনে জমকালো উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর, মাঠের লড়াইয়ে মেক্সিকো সিটির গ্যালারি মেতে উঠল উল্লাসে। চার বছরের দীর্ঘ প্রতীক্ষার অবসান ঘটিয়ে ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচে দক্ষিণ আফ্রিকাকে ২-০ ব্যবধানে হারিয়ে দাপুটে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক মেক্সিকো।
হুলিয়ান কিনিয়োনেনস ও অভিজ্ঞ ফরোয়ার্ড রাউল হিমেনেজের গোল উৎসবে মেক্সিকানদের জয়টা যতটা সহজ মনে হচ্ছে, মাঠের চিত্র ছিল ঠিক ততটাই উত্তপ্ত। পুরো ম্যাচে তিন-তিনটি লাল কার্ডের ঘটনা বিশ্বকাপের প্রথম ম্যাচেই ছড়াল তুমুল উত্তেজনা। তবে ম্যাচের লাগাম শুরু থেকেই ছিল স্বাগতিক দলটির হাতে। ৬১ শতাংশ সময় বল নিজেদের দখলে রেখে একের পর এক আক্রমণ শানায় তারা।
ম্যাচের প্রথম বাঁশি বাজার পর থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল উপহার দিতে থাকে স্বাগতিকরা। ম্যাচের মাত্র ৫ম মিনিটেই গোলের সুবর্ণ সুযোগ তৈরি করেছিলেন রাউল হিমেনেজ, তবে দক্ষিণ আফ্রিকার গোলরক্ষক রনওয়েন উইলিয়ামস দুর্দান্ত দক্ষতায় সে যাত্রা দলকে রক্ষা করেন। কিন্তু সেই প্রতিরোধ স্থায়ী হয়নি বেশি সময়।
ম্যাচের ৯ম মিনিটে আক্রমণভাগের দারুণ এক সমন্বয় থেকে ঠান্ডা মাথায় বল জালে পাঠান হুলিয়ান কিনিয়োনেস। এই গোলের মাধ্যমে ২০২৬ বিশ্বকাপের প্রথম গোলদাতা হিসেবে ইতিহাসের পাতায় নিজের নাম লেখালেন এই ফরোয়ার্ড। প্রথমার্ধের বাকি সময়ে আরও কিছু আক্রমণ হলেও ১-০ গোলের ব্যবধান নিয়েই বিরতিতে যায় দু-দল।
দ্বিতীয়ার্ধের শুরুতেই ম্যাচের মোড় ঘুরে যায়। ৪৮তম মিনিটে মেক্সিকোর গুতিয়েরেসকে ডি-বক্সের ঠিক বাইরে ফাউল করে বসেন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার স্পেফেলো সিথোলে। নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করায় রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখালে ১০ জনের দলে পরিণত হয় দক্ষিণ আফ্রিকা।
এরপর ৬৬তম মিনিটে মেক্সিকোর ফুটবল ইতিহাসে সর্বকনিষ্ঠ খেলোয়াড় হিসেবে মাত্র ১৭ বছর বয়সে মাঠে নেমে ইতিহাস গড়েন গিলবার্তো মোরা। তার মাঠে নামার ঠিক এক মিনিট পরেই, অর্থাৎ ৬৭তম মিনিটে রবার্তো আলভারাদোর নিখুঁত ক্রসে দারুণ এক হেডে বল জালে জড়ান রাউল হিমেনেজ। মেক্সিকো এগিয়ে যায় ২-০ ব্যবধানে।
ম্যাচের শেষভাগ রূপ নেয় চরম উত্তেজনায়। ৮৪তম মিনিটে মেক্সিকোর এক খেলোয়াড়কে ফাউল করে দ্বিতীয় হলুদ কার্ড (লাল কার্ড) দেখে মাঠ ছাড়েন দক্ষিণ আফ্রিকার মিডফিল্ডার থেম্বা জোয়ানে। তবে নাটকীয়তার তখনও বাকি ছিল। ম্যাচের একদম শেষ মুহূর্তে যোগ করা সময়ে প্রতিপক্ষের নিশ্চিত গোলের সুযোগ নষ্ট করতে গিয়ে অপ্রয়োজনীয় ফাউল করে বসেন মেক্সিকোর অধিনায়ক সিজার মন্তেস।
রেফারি তাকে সরাসরি লাল কার্ড দেখিয়ে মাঠের বাইরে পাঠালে দুই দল মিলিয়ে মোট তিনটি লাল কার্ডের সাক্ষী হয়ে শেষ হয় বিশ্বকাপের উদ্বোধনী ম্যাচ। শেষ পর্যন্ত ২-০ গোলের স্বস্তির জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে স্বাগতিক মেক্সিকো।

