যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের সাথে এক চাঞ্চল্যকর ও নতুন শর্তের কথা প্রকাশ করেছেন। তিনি দাবি করেছেন, ইরান কেবল নিজেদের দেশে পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বন্ধ করতেই রাজি হয়নি, বরং বিদেশ থেকে এই ধরনের মারাত্মক অস্ত্র ক্রয় না করার শর্তেও সম্মত হয়েছে। সম্প্রতি সমর্থকদের সাথে এক ফোনালাপে ইরানের সাথে চলমান আলোচনার এই ভেতরের তথ্যটি সামনে আনেন ট্রাম্প।
ফোনালাপে ট্রাম্প বেশ দৃঢ়তার সাথে বলেন, “সবচেয়ে বড় কথা হলো, ইরানের কাছে কোনো পারমাণবিক অস্ত্র থাকবে না। এর অর্থ হলো—তারা এটি নিজেরা তৈরিও করবে না এবং অন্য কোথাও থেকেও কখনো কিনবেও না।” ট্রাম্পের এই বক্তব্য আন্তর্জাতিক রাজনীতিতে নতুন করে আলোচনার ঝড় তুলেছে।
চুক্তির টেবিলে কীভাবে এই কঠিন শর্তটি যুক্ত করা হলো, তার একটি সংক্ষিপ্ত বিবরণও দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্পের ভাষ্যমতে, “চুক্তিতে আগে তাদের একটি ধারা ছিল যে তারা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করবে না। তখন আমি তাদের জিজ্ঞেস করলাম, ‘তাহলে অন্য দেশ থেকে পরমাণু অস্ত্র কেনার ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত?’ তারা কিছুটা অপ্রস্তুত হয়ে উত্তর দিল, ‘উম, আমরা তো চুক্তিতে সেই বিষয়টি এখনও অন্তর্ভুক্ত করিনি।’ এরপর ঠিক দুই দিন পর তারা আমার এই শর্তেও রাজি হয়ে যায়। সংক্ষেপে বলতে গেলে, আমরা যা যা চেয়েছিলাম, তার সবই পেয়েছি।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের এই নতুন দাবির পর এটি এখন পুরোপুরি স্পষ্ট যে, মার্কিন প্রশাসন ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচির সব পথ চিরতরে বন্ধ করার জন্য সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টি করেছিল। বিশ্বজুড়ে এই চুক্তি নিয়ে তীব্র কৌতুহল ও উত্তেজনা বাড়লেও, তেহরানের পক্ষ থেকে এখনও এই বিষয়ে বিস্তারিত কোনো আনুষ্ঠানিক প্রতিক্রিয়া কিংবা পাল্টা বিবৃতি জানানো হয়নি। ফলে পুরো বিষয়টি নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে এক ধরণের ধোঁয়াশা ও প্রতীক্ষা বিরাজ করছে।

