প্রধান খবর

সালমান শাহর লাশ কবর থেকে উত্তোলনের নির্দেশ: পুনর্তদন্তের সিদ্ধান্ত

জনপ্রিয় চিত্রনায়ক সালমান শাহর (চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার ইমন) মৃত্যুর প্রকৃত রহস্য উদঘাটনে এক যুগান্তকারী সিদ্ধান্ত নিয়েছেন আদালত। দীর্ঘ বছর পর, একজন নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের প্রত্যক্ষ উপস্থিতিতে তার মরদেহ কবর থেকে উত্তোলনের অনুমতি দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে লাশ উত্তোলনের পর নতুন করে সুরতহাল প্রতিবেদন তৈরি এবং পুনঃময়নাতদন্ত সম্পন্ন করার জন্য সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে নির্দেশ দিয়েছেন আদালত।

বুধবার (১০ জুন) মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ গণমাধ্যমকে বিষয়টি নিশ্চিত করেন। এর আগে, গত ২০ মে মামলার সুষ্ঠু তদন্ত ও মৃত্যুর সঠিক কারণ জানার লক্ষ্যে সিআইডির পক্ষ থেকে আদালতে এই বিশেষ আবেদনটি করা হয়েছিল।
সিআইডি পরিদর্শক জিয়াউল মোর্শেদ জানান, “হত্যার প্রকৃত কারণ উদঘাটনের জন্য নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের উপস্থিতিতে লাশ উত্তোলন, সুরতহাল ও ময়নাতদন্তের আবেদন জানালে আদালত তা মঞ্জুর করেন। আইনি কিছু প্রাথমিক প্রক্রিয়া শেষ করেই দ্রুততম সময়ের মধ্যে লাশ উত্তোলন করা হবে।”

আদালতে পেশ করা আবেদন থেকে জানা যায়, ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সালমান শাহর মা নীলা চৌধুরীর পক্ষে মামলার বাদী ও সালমানের মামা মো. আলমগীর (৬৮), বাবা মৃত কমর উদ্দিন আহমদ চৌধুরী এবং ছোট ভাই শাহরান শাহ নিউ ইস্কাটনের বাসায় দেখা করতে যান। সে সময় সালমানের স্ত্রী সামীরা হক এবং গৃহকর্মী আবুল জানান যে সালমান শাহ ঘুমাচ্ছেন।
পরবর্তীতে তারা গ্রিনরোডের বাসায় ফিরে যাওয়ার পর, বেলা সাড়ে ১১টার দিকে সালমান শাহর বাসা থেকে জরুরি ফোন আসে। স্বজনরা দ্রুত ইস্কাটন প্লাজার ফ্ল্যাটে ফিরে এসে শয়নকক্ষের খাটের ওপর সালমান শাহকে অচেতন অবস্থায় পড়ে থাকতে দেখেন।
তাত্ক্ষণিকভাবে তাকে হলি ফ্যামিলি হাসপাতালে নেওয়া হয়। সেখান থেকে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে স্থানান্তরিত করা হলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন। এরপর সিলেটের হযরত শাহজালাল (র.) মাজার সংলগ্ন কবরস্থানে তাকে দাফন করা হয় এবং রমনা থানায় একটি অপমৃত্যুর মামলা হয়।

দীর্ঘদিন পর গত বছরের ২১ অক্টোবর রাজধানীর রমনা থানায় সালমান শাহর মামা মোহাম্মদ আলমগীর বাদী হয়ে একটি হত্যা মামলা দায়ের করেন। দণ্ডবিধির ৩০২/৩৪ ধারায় দায়ের করা এই মামলায় সালমান শাহকে পরিকল্পিতভাবে হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে।

মামলার প্রধান আসামিরা হলেন: সামীরা হক (সালমান শাহর স্ত্রী), আজিজ মোহাম্মদ ভাই (শিল্পপতি ও সাবেক চলচ্চিত্র প্রযোজক),
লতিফা হক লুছি, খলনায়ক ডন, ডেবিট, জাভেদ ও ফারুক, মে-ফেয়ার বিউটি সেন্টারের রুবি, আব্দুস সাত্তার, সাজু এবং রেজভি  আহমেদ ফরহাদ

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *