মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনা নিরসনে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ কূটনৈতিক প্রচেষ্টা ব্যর্থ করে দিয়ে ইরানের ওপর পাল্টা সামরিক হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সরাসরি অনুরোধ উপেক্ষা করেই ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ) এই পদক্ষেপ নেয়। এর আগে ইসরায়েলি সামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের চালানো ক্ষেপণাস্ত্র হামলার জবাবেই এই পাল্টা আক্রমণ চালানো হয়েছে বলে জানা গেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি বিমান বাহিনী পশ্চিম ও মধ্য ইরানের বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তু ও কৌশলগত স্থাপনাগুলোতে এই জোরালো হামলা চালায়। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন ও সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি (IRIB) নিশ্চিত করেছে যে, রাজধানী তেহরান, তাবরিজ এবং ইসফাহান শহরের একাধিক স্থানে দফায় দফায় শক্তিশালী বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
উল্লেখ্য, গত শনিবার লেবাননের রাজধানী বৈরুতে ইসরায়েলি বাহিনীর প্রাণঘাতী বিমান হামলার প্রতিবাদে রোববার মধ্যরাতে উত্তর ইসরায়েলের ‘রামাত ডেভিড’ বিমানঘাঁটি লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি দূরপাল্লার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল ইরানের অভিজাত সামরিক শাখা আইআরজিসি।
ইরানের সেই হামলার পরপরই মধ্যপ্রাচ্যে একটি বৃহত্তর আঞ্চলিক যুদ্ধ এড়াতে সরাসরি কূটনৈতিক ময়দানে নেমেছিলেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেঞ্জামিন নেতানিয়াহুকে ব্যক্তিগতভাবে ফোন করে ইরানে কোনো ধরনের প্রতিশোধমূলক বা পাল্টা হামলা না চালানোর জন্য কড়া ভাষায় আহ্বান জানিয়েছিলেন। একই সাথে ট্রাম্প ইরানকেও আলোচনার টেবিলে ফেরার আহ্বান জানান। তবে ওয়াশিংটনের সেই যুদ্ধবিরতি ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বানকে বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়ে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানেই ইরানের ওপর এই বিমান হামলা চালাল তেল আবিব।

