ভারত মহাসাগরের নীল জলের বুকে ১১৫টি ছোট-বড় দ্বীপ নিয়ে গঠিত হয়েছে ক্ষুদ্র একটি স্বাধীন সার্বোভৌম দেশ সেশেলস। এটি আফ্রিকা মহাদেশের মূল ভূখণ্ড থেকে ১,৫০০ কিলোমিটার (৮০০ নটিক্যাল মাইল) পূর্বে অবস্থিত।
এটি বিশ্বজুড়ে পর্যটন শিল্পের জন্য স্বর্গরাজ্য হিসেবে খ্যাতি অর্জন করেছে এবং আফ্রিকার মাথাপিছু আয়ের দিক থেকে সবচেয়ে ধনী দেশগুলোর একটি। আফ্রিকার অর্থনৈতিক সমৃদ্ধ, শান্তিপূর্ণ এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যে অনন্য এক দেশ।
উইকিপিডিয়ার দেয়া ২০২৬ সালের হালনাগান তথ্য অনুযায়ী, সেশেলসের স্থলভাগের আয়তন মাত্র ৪৫৭ বর্গকিলোমিটার হলেও এ দেশটির জনসংখ্যা প্রায় ১ লাখ ৩০ হাজারের কাছাকাছি হতে পারে। এটি আয়তন ও জনসংখ্যায় দিক দিয়ে আফ্রিকার ক্ষুদ্রতম দেশগুলোর একটি।
১৯৭৬ সালে যুক্তরাজ্য থেকে স্বাধীনতা ঘোষণার পর থেকে দেশটি ধীরে ধীরে বৈদেশিক পর্যটন নির্ভর উন্নত অর্থনীতিতে প্রবেশ করে। বর্তমানে দেশটির জনসংখ্যার অধিকাংশই বসবাস করেন মূল দ্বীপ মাহে (Mahé)-তে।
২০২৬ সালের হিসাব অনুযায়ী, সেশেলসের জিডিপির (পিপিপি) আকার প্রায় ৪.৪৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার এবং মাথাপিছু আয় (পিপিপি) প্রায় ৪৩,৮৫০ মার্কিন ডলার। জীবনযাত্রার মানও আফ্রিকার অন্য দেশগুলোর তুলনায় অনেক উন্নত।
দেশটির অর্থনীতির মূল চালিকাশক্তি পর্যটন ও মৎস্যশিল্প। বিশেষ করে টুনা মাছ রপ্তানিতে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দেশে পরিণত হয়েছে। দেশটিতে প্রতি বছর হাজার হাজার পর্যটক সাদা বালুর সমুদ্রসৈকত, স্বচ্ছ নীল জলরাশি ও অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্য উপভোগ করতে আসেন।
ট্যাক্স হেভেন বা করমুক্ত বাণিজ্যকেন্দ্র হিসেবেও দেশটির বিশেষ খ্যাতি রয়েছে। সেশেলসের মুদ্রার নাম সেচেলোইস রুপি (SCR )। এখানকার মানুষের গড় আয়ু ৭৩-৭৫ বছর এবং সাক্ষরতার হার প্রায় ৯৬%, যা আফ্রিকার মধ্যে সর্বোচ্চ।
সবচেয়ে আশ্চর্যজনক ও অনুপ্রেরণাদায়ক বিষয় হলো— দেশটির মোট স্থলভাগের প্রায় ৫০% সংরক্ষিত বনাঞ্চল বা জাতীয় উদ্যান হিসেবে সুরক্ষিত করা হয়েছে। কো-কো ডি মের নামের বিরল ফল ও দানবীয় কচ্ছপ এখানকার প্রতীকী জীববৈচিত্র্য।
ছোট আয়তনের দেশ সেশেলস প্রমাণ করেছে যে, প্রকৃতিকে ভালোবেসে এবং পরিকল্পিত কিংবা টেকসই নীতি গ্রহণ করেও অর্থনৈতিকভাবে সমৃদ্ধি অর্জন সম্ভব।

