প্রধান খবর

লেবাননের নাবতিহতে ইসরায়েলের ভয়াবহ বিমান হামলায় নিহত ১০

লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলীয় নাবতিহ জেলায় ইসরায়েলি বিমান বাহিনীর একের পর এক শক্তিশালী হামলায় ধ্বংসস্তূপে পরিণত হয়েছে বেশ কিছু বেসামরিক এলাকা। গত ২৪ ঘণ্টায় পৃথক তিনটি বিমান হামলায় অন্তত ১০ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করেছে লেবাননের জাতীয় সংবাদ সংস্থা (এনএনএ)। নিহতদের মধ্যে জরুরি উদ্ধারকারী দলের সদস্য ও প্যারামেডিক থাকায় আন্তর্জাতিক অঙ্গনে নিন্দার ঝড় উঠেছে।

স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম ও স্বাস্থ্য বিভাগের তথ্যানুযায়ী, ইসরায়েলি যুদ্ধবিমানগুলো নাবতিহ জেলার তিনটি কৌশলগত জনপদকে লক্ষ্যবস্তু করে এই হামলা চালায়। প্রথম হামলাটি সংঘটিত হয় কাফার সির শহরে, যেখানে প্রাণ হারান চারজন। মর্মান্তিক বিষয় হলো, নিহতদের মধ্যে একজন পেশাদার প্যারামেডিক রয়েছেন যিনি আহতদের সেবা দিচ্ছিলেন। এই হামলায় আরও চারজন গুরুতর আহত হয়েছেন।

দ্বিতীয় আঘাতটি আসে জেফতা শহরে। সেখানে লেবানিজ সিভিল ডিফেন্সের একজন সদস্যসহ মোট তিনজন নিহত হন। উদ্ধারকাজে নিয়োজিত কর্মীদের ওপর এমন সরাসরি হামলায় স্থানীয়দের মধ্যে তীব্র আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। তৃতীয় হামলাটি চালানো হয় তুল শহরে, যেখানে আরও তিনজনের মৃত্যুর সংবাদ পাওয়া গেছে এবং আহত হয়েছেন বেশ কয়েকজন।

আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষকরা উদ্ধারকারী দলের সদস্যদের ওপর ইসরায়েলি বাহিনীর এই লক্ষ্যভেদী হামলাকে ‘আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের চরম লঙ্ঘন’ হিসেবে অভিহিত করেছেন । রেড ক্রস ও স্থানীয় স্বাস্থ্য বিভাগ জানিয়েছে, উদ্ধারকর্মীদের নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ায় ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে বেগ পেতে হচ্ছে।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় আশঙ্কা প্রকাশ করেছে যে, গুরুতর আহতদের অবস্থা আশঙ্কাজনক হওয়ায় নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে। ধ্বংসস্তূপ সরাতে এবং নিখোঁজদের সন্ধানে এখনো অভিযান চালাচ্ছে সিভিল ডিফেন্সের বিশেষ দল।

নাবতিহ জেলায় এই সাম্প্রতিক তান্ডব মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংঘাতকে আরও জটিল করে তুলেছে। ইসরায়েলি বাহিনীর পক্ষ থেকে এই সুনির্দিষ্ট হামলার বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া না গেলেও, তারা দীর্ঘ সময় ধরে দক্ষিণ লেবাননকে লক্ষ্যবস্তু করে আসছে। বর্তমানে পুরো এলাকায় থমথমে পরিস্থিতি বিরাজ করছে এবং হাজারো বেসামরিক মানুষ নিরাপদ আশ্রয়ের সন্ধানে এলাকা ত্যাগ করছেন।

বিশ্ব সম্প্রদায় এই রক্তক্ষয়ী সংঘাত বন্ধে দ্রুত কূটনৈতিক পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানালেও, মাঠপর্যায়ে পরিস্থিতির কোনো উন্নতি দেখা যাচ্ছে না।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *