ভারতের পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভা নির্বাচনের ফলাফল প্রকাশের শুরুতেই বড় ধরনের রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের ইঙ্গিত মিলছে। ১৫ বছর ধরে টানা ক্ষমতায় থাকা মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের তৃণমূল কংগ্রেস এবার বিশাল ধাক্কার মুখে পড়েছে। সোমবার সকাল থেকে কড়া নিরাপত্তায় শুরু হওয়া ভোট গণনায় দেখা যাচ্ছে, অর্ধেকেরও বেশি আসনে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)। দীর্ঘ শাসনের পর তৃণমূলের এই পিছিয়ে পড়া রাজ্য রাজনীতিতে নতুন সমীকরণের জন্ম দিয়েছে।
এনডিটিভি ও আনন্দবাজারের তথ্য অনুযায়ী, গণনার প্রথম কয়েক ঘণ্টাতেই বিজেপি একক সংখ্যাগরিষ্ঠতার ‘ম্যাজিক ফিগার’ ১৪৮ ছাড়িয়ে অনেক দূর এগিয়ে গেছে। বিজেপি প্রায় ১৮৩ থেকে ১৯৭টি আসনে লিড দিচ্ছে, যেখানে তৃণমূল কংগ্রেসের অবস্থান ১০০-র কাছাকাছি। এবারের নির্বাচনে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের সাবেক ঘনিষ্ঠ সহযোগী শুভেন্দু অধিকারীর নেতৃত্বে বিজেপি তৃণমূলের দুর্গে শক্ত হানা দিয়েছে। বিশেষ করে বিতর্কিত এসআইআর প্রক্রিয়া এবং রেকর্ডসংখ্যক ভোটার বাদ পড়ার ইস্যুটি এই নির্বাচনে বড় প্রভাব ফেলেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
সবচেয়ে আলোচিত কেন্দ্র ভবানীপুরে মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় ও বিরোধী দলনেতা শুভেন্দু অধিকারীর মধ্যে চলছে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই। পঞ্চম রাউন্ড শেষে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায় তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী শুভেন্দুর চেয়ে ১৬ হাজার ৭০৬ ভোটে এগিয়ে থাকলেও রাজ্যজুড়ে দলের বিপর্যয় তৃণমূল শিবিরে বিষণ্ণতা তৈরি করেছে। ২০২১ সালের নির্বাচনে ২১৫টি আসন নিয়ে দাপটের সাথে ক্ষমতায় আসা তৃণমূল এবার কংগ্রেস, বামফ্রন্ট এবং তৃণমূল থেকে বহিষ্কৃত হুমায়ুন কবিরের গড়া নতুন দলের ত্রিমুখী ও চতুর্মুখী চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে।
পশ্চিমবঙ্গ বিধানসভার ২৯৪টি আসনের চূড়ান্ত ফলাফলের জন্য ২০ রাউন্ড পর্যন্ত গণনা চলবে। যদিও বুথফেরত জরিপ বা এক্সিট পোলগুলো কোনো সুনির্দিষ্ট পূর্বাভাস দিতে পারেনি, তবে বাস্তব চিত্রে বিজেপির ‘পরিবর্তনের’ ডাক ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক সাড়া ফেলেছে বলে মনে হচ্ছে। বাম শাসনের অবসানের ১৫ বছর পর আবারও পশ্চিমবঙ্গে নতুন কোনো রাজনৈতিক শক্তির উত্থান ঘটে কি না, এখন সেটিই দেখার বিষয়। চূড়ান্ত ফলাফলের দিকে তাকিয়ে আছে গোটা ভারতসহ প্রতিবেশী দেশগুলো।

