প্রধান খবর

নতুন সরকারের কূটনৈতিক পরীক্ষার মুখে ঢাকা

দীর্ঘ দুই দশকেরও বেশি সময় পর রাষ্ট্রীয় ক্ষমতায় ফিরছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)। মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) নতুন সরকারের শপথের পরপরই কূটনৈতিক অঙ্গনে একাধিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নামতে হবে দলটিকে। বিশ্লেষকদের মতে, প্রতিবেশী ভারত-এর সঙ্গে সম্পর্ক পুনরুজ্জীবন, যুক্তরাষ্ট্র-এর অনিশ্চিত নীতির সঙ্গে সামঞ্জস্য রক্ষা এবং বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে কার্যকর কৌশল নির্ধারণ এসবই হবে তাৎক্ষণিক অগ্রাধিকার।

সাবেক রাষ্ট্রদূত মুন্সি ফয়েজ আহমেদ বলেন, অন্তর্বর্তী সময়কালে ভারতের সঙ্গে সম্পর্কের অবনতি হয়েছে; সেটি পুনর্গঠন করা নতুন সরকারের জন্য বড় পরীক্ষা। তবে নির্বাচনের আগে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী-এর শুভেচ্ছা বার্তা এবং দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী এস. জয়শঙ্কর-এর সফর ইঙ্গিত দেয় যে সম্পর্ক পুরোপুরি অচল নয়। তার মতে, পারস্পরিক সম্মান ও স্বার্থের ভিত্তিতে ভারসাম্যপূর্ণ কূটনীতি অনুসরণ করলে বড় সংকট এড়ানো সম্ভব।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ওবায়দুল হক মনে করেন, অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধারই সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। বিদেশি বিনিয়োগ বৃদ্ধি, বাণিজ্য চুক্তি সম্প্রসারণ এবং বহুমাত্রিক অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদার করতে হবে। তার মতে, পররাষ্ট্রনীতি ও অর্থনীতি এখন পরস্পরনির্ভর; তাই সমন্বিত কৌশল অপরিহার্য।

বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটও নতুন সরকারের জন্য জটিল হয়ে উঠেছে। ইউক্রেন যুদ্ধ, জ্বালানি সংকট ও মূল্যস্ফীতির প্রভাবে বিশ্বব্যবস্থায় পরিবর্তন আসছে। বিশ্লেষকদের মতে, কেবল ভারত, চীন বা যুক্তরাষ্ট্রকে ঘিরে নীতি নির্ধারণ নয়; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়ন, দক্ষিণ এশিয়া ও ইন্দো-প্যাসিফিক অঞ্চলের শক্তির ভারসাম্য বিবেচনায় নিয়ে বহুমুখী কূটনৈতিক অবস্থান নিতে হবে।

নীতিনির্ধারকদের মতে, একক ব্যক্তি বা একক মন্ত্রণালয়কেন্দ্রিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে বিশেষজ্ঞ মতামতভিত্তিক সমন্বিত কূটনীতি অনুসরণ করাই হবে সময়োপযোগী পদক্ষেপ। দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দিয়ে বাস্তববাদী ও মর্যাদাপূর্ণ কূটনৈতিক কৌশল গ্রহণ করতে পারলে নতুন সরকার আন্তর্জাতিক অঙ্গনে স্থিতিশীলতা ও আস্থার বার্তা দিতে সক্ষম হবে।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *