বিগত অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে জারি করা ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ’ অপ্রয়োজনীয় ছিল বলে মন্তব্য করেছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম। মঙ্গলবার (৭ এপ্রিল) ট্রাইব্যুনাল সংলগ্ন নিজ কার্যালয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এই আইনগত পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
চিফ প্রসিকিউটর উল্লেখ করেন যে, গুমের মতো গুরুতর অপরাধের বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে ইতিমধ্যেই যথেষ্ট এখতিয়ার বিদ্যমান ছিল। তিনি জানান, গত রবিবার জাতীয় সংসদে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনী বিল পাস হওয়ার মাধ্যমে গুমের বিষয়টি আনুষ্ঠানিকভাবে এই আইনের অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। ফলে পৃথক কোনো অধ্যাদেশের মাধ্যমে এই অপরাধের বিচার প্রক্রিয়ার প্রয়োজন ছিল না বলে তিনি মনে করেন।
সংসদে আইনমন্ত্রীর বক্তব্যের সূত্র টেনে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, “আইন সংশোধনের মাধ্যমে গুমের বিচারের বিষয়ে সরকারের দৃঢ় প্রতিশ্রুতি প্রমাণিত হয়েছে।” যদিও তিনি সংশোধিত আইনের পূর্ণাঙ্গ কপিটি এখনও হাতে পাননি, তবুও এই উদ্যোগের জন্য আইনমন্ত্রী ও সংসদ সদস্যদের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।
মো. আমিনুল ইসলাম আরও বলেন, “গুম অধ্যাদেশটি একটি অতিরিক্ত আইনি পদক্ষেপ ছিল। ট্রাইব্যুনাল আইনে আগে থেকেই এ ধরনের অপরাধের বিচারের পর্যাপ্ত সুযোগ ছিল। এখন যেহেতু বিষয়টি মূল আইনের সঙ্গে একীভূত হয়েছে, আমি মনে করি এটি একটি সঠিক এবং অত্যন্ত যৌক্তিক সিদ্ধান্ত।”
আইনবিশেষজ্ঞদের মতে, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনে গুমের বিষয়টিকে সরাসরি অন্তর্ভুক্ত করায় বিচার প্রক্রিয়া আরও শক্তিশালী ও সুসংহত হবে। এর ফলে একই ধরনের অপরাধের জন্য একাধিক আইনের জটিলতা হ্রাস পাবে এবং ভুক্তভোগীরা দ্রুত ন্যায়বিচার পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।

