দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর আগ্রাসন এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন কৌশলগত সামরিক অবস্থান লক্ষ্য করে ব্যাপক বিমান, ড্রোন ও রকেট হামলা চালিয়েছে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ। গত সোমবার (১ জুন) দিনভর ইসরায়েলি সেনা সমাবেশ, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ‘আয়রন ডোম’ এবং উত্তর ইসরায়েলের বিভিন্ন বসতি লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে প্রকাশিত একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতিতে সোমবারের সামরিক অভিযানের বিস্তারিত খতিয়ান তুলে ধরা হয়েছে। প্রতিরোধ গোষ্ঠীটি জানিয়েছে, তারা গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর মোট ৪১টি পৃথক হামলা চালিয়েছে। লেবাননে ইসরায়েলি বাহিনীর যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘন এবং দক্ষিণ লেবাননের সাধারণ বেসামরিক নাগরিকদের ওপর অনবরত আগ্রাসনের কড়া জবাব দিতেই এই বিশেষ সামরিক অভিযান চালানো হয়েছে বলে তাদের পক্ষ থেকে জানানো হয়।
হিজবুল্লাহর এই হামলায় মূলত ঝাঁকে ঝাঁকে রকেট এবং দূরনিয়ন্ত্রিত বিস্ফোরক ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে। উত্তর ইসরায়েলের কিরিয়াত শমোনা ও মা’আলোত-তারশিহা বসতিতে অবস্থান করা ইসরায়েলি সেনা সমাবেশ এবং ইসরায়েলের একটি গুরুত্বপূর্ণ বিমান নিয়ন্ত্রণ ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে নিখুঁতভাবে রকেট বর্ষণ করা হয়। এছাড়া, হিজবুল্লাহর একটি শক্তিশালী বিস্ফোরক বোঝাই কামিকাজে ড্রোন সরাসরি ইসরায়েলের বিখ্যাত ‘আয়রন ডোম’ ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ ব্যবস্থার ওপর আঘাত হেনে সেটি ধ্বংস করেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
বিবৃতিতে হিজবুল্লাহ আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত সংলগ্ন গ্রামগুলোতে অগ্রসরমান ইসরায়েলি পদাতিক বাহিনীর বিরুদ্ধে তাদের যোদ্ধারা তীব্র সম্মুখ যুদ্ধ ও অতর্কিত হামলা পরিচালনা করছে। বিশেষ করে দিব্বিন, আল-কানতারা, ইয়াহমোর আল-শাকিফ এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট কেল্লার কাছাকাছি এলাকায় অবস্থান নেওয়া ইসরায়েলি সেনা দল এবং সামরিক যানগুলোর ওপর এই বিধ্বংসী প্রতিরোধ গড়ে তোলা হয়।
প্রতিরক্ষা বিশ্লেষকদের মতে, একদিনে ৪১টি হামলার এই পরিসংখ্যান ইঙ্গিত করে যে, ফ্রন্টলাইনে ইসরায়েলি বাহিনীর অগ্রযাত্রাকে রুখে দিতে হিজবুল্লাহ তাদের সামরিক শক্তি ও কৌশলগত ড্রোন-রকেট হামলার তীব্রতা বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। এই ধারাবাহিক সংঘর্ষের ফলে সীমান্ত অঞ্চলে উত্তেজনা এখন চরমে।

