ওমান উপসাগর এবং হরমুজ প্রণালীতে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনার মধ্যেই তেহরানের বিরুদ্ধে বড় ধরনের সাফল্যের দাবি করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। সোমবার (২০ এপ্রিল) নিজের সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ‘ট্রুথ সোশ্যাল’-এ দেওয়া এক পোস্টে তিনি বর্তমান পরিস্থিতিকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত ইতিবাচক বলে অভিহিত করেছেন।
ট্রাম্প তার পোস্টে লিখেছেন, “ইরানের সঙ্গে চলমান এই লড়াইয়ে আমি অনেক বড় ব্যবধানে এগিয়ে আছি এবং সবকিছু খুব চমকার ভাবে চলছে।” তিনি মধ্যপ্রাচ্যের জলসীমায় নিয়োজিত মার্কিন সামরিক বাহিনীর কার্যক্রমের ভূয়সী প্রশংসা করে তাদের ভূমিকাকে ‘অসাধারণ’ ও ‘অত্যন্ত দক্ষ’ বলে বর্ণনা করেন।
বরাবরের মতোই ট্রাম্প মার্কিন মূলধারার প্রভাবশালী সংবাদমাধ্যমগুলোর কঠোর সমালোচনা করেছেন। নিউ ইয়র্ক টাইমস, ওয়াশিংটন পোস্ট এবং ওয়াল স্ট্রিট জার্নালের নাম উল্লেখ করে তিনি অভিযোগ করেন যে, এই গণমাধ্যমগুলো ইরান পরিস্থিতির ভুল ব্যাখ্যা দিচ্ছে এবং নেতিবাচক চিত্র তুলে ধরছে। তিনি এই সংবাদ মাধ্যমগুলোকে ‘পক্ষপাতদুষ্ট’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে জনগণের উদ্দেশ্যে তার নিজস্ব তথ্যের ওপর আস্থা রাখার আহ্বান জানান।
ট্রাম্পের বক্তব্যে সবচেয়ে উদ্বেগের বিষয় ছিল ইরানের অর্থনীতির ওপর মার্কিন অবরোধের প্রভাব। ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত কঠোর নৌ-অবরোধের ফলে ইরানের বন্দরগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়েছে। তার দেওয়া তথ্যমতে, এই অবরোধের কারণে ইরান প্রতিদিন প্রায় ৫০ কোটি ডলারের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছে। তিনি বলেন, “ইরানের পক্ষে এই বিশাল ক্ষতি দীর্ঘদিন সহ্য করা সম্ভব নয়; তাদের অর্থনীতি বর্তমানে চরম সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে।”
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প পরিষ্কারভাবে জানিয়ে দিয়েছেন যে, কোনো সুনির্দিষ্ট চুক্তি স্বাক্ষরিত না হওয়া পর্যন্ত এই অবরোধ শিথিল বা প্রত্যাহার করার কোনো পরিকল্পনা ওয়াশিংটনের নেই। তিনি তেহরানকে আলোচনার টেবিলে আসার প্রচ্ছন্ন ইঙ্গিত দিলেও, তা হতে হবে যুক্তরাষ্ট্রের শর্তাধীন।
বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, ট্রাম্পের এই অনমনীয় অবস্থান মধ্যপ্রাচ্যের ভূ-রাজনীতিকে আরও অস্থির করে তুলতে পারে। একদিকে ইরান যখন হরমুজ প্রণালী বন্ধের হুমকি দিচ্ছে, অন্যদিকে ট্রাম্পের এই ‘চুক্তি না হওয়া পর্যন্ত অবরোধ’ বজায় রাখার ঘোষণা দুই দেশের মধ্যে সরাসরি যুদ্ধের আশঙ্কাকে আরও ঘনীভূত করছে।

